কমবে ক্যান্সার ফিরে আসার ঝুঁকি প্রথমবার ভারতে ক্যান্সার পুনরাবৃত্তির রোগের ওষুধ তৈরি

কমবে ক্যান্সার ফিরে আসার ঝুঁকি প্রথমবার ভারতে ক্যান্সার পুনরাবৃত্তির রোগের ওষুধ তৈরি

মরণঘাতী ব্যাধি হিসেবে পরিচিত ক্যান্সার। মানবদেহে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন এর মাধ্যমে উৎপত্তি ঘটে এই রোগের। এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় বেশিরভাগ রোগী মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। এবং বেশিরভাগই সঠিক চিকিৎসাও করা হয় না। এখন পর্যন্ত ক্যান্সার চিকিৎসায় সুনির্দিষ্ট কোন ওষুধ তৈরি করতে পারেনি বৈজ্ঞানিকরা। তবে ক্যান্সার নিরাময়ের যুগান্তকারী ঔষধ আবিষ্কার এর দাবি ভারতের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারে র । ওষুধটি সেবনে কোন ব্যক্তির দ্বিতীয়বারের মতো ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এবং 50% পর্যন্ত কমবে রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘ ১০ বছরের গবেষণায় কয়েক কোটি রুপি খরচ করে এই ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে। এবং কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১০০ রুপি। ভারতের টাটা মেমোরিয়া সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ক্যান্সার সার্জন ডাক্তার রাজেন্দ্র বারভে বলেন, গেল পাঁচ বছরে আবিষ্কৃত নতুন চিকিৎসাগুলোই ক্যান্সার নিরাময়ের হার মাত্র ৫ থেকে ১০% এই চিকিৎসায় খরচ এক লাখ থেকে চার কোটি রুপি অন্যদিকে আমাদের ওষুধ দাম রাখা হয়েছে মাত্র ১০০ রুপি মধ্যে। ওষুধটি নিয়ে গবেষণার জন্য ইঁদুরের দেহে মানুষের ক্যান্সার কোষ ঢোকানো হয়। যা পরিণত হয় টিউমার এ । এরপর ইঁদুরগুলোকে রেডিয়েশন থেরাপি ও কেমোথেরাপি দেয়া হয় এতে ক্যান্সার কোষ গুলো মারা গেলেও সেগুলো পরিণত হয় ক্রোমার্টিন এর ছোটকোনাতে এই ক্রোমাটিন কণা গুলো পরবর্তীতে রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে গিয়ে সংক্রমিত করে সুস্থ কোষ কে। সুস্থ কোষ কে সংক্রমণ থেকে রক্ষায় গবেষকরা ইঁদুরের দেহে প্রবেশ করে প্রঅক্সিডেন্ট ট্যাবলেট যা অক্সিজেন রেডিকেল তৈরির মাধ্যমে ধ্বংস করে ক্রোমাটিন কণাকে জাদুর মত কার্যকরী ওষুধটিকে নিয়ে আশাবাদী গবেষকরা। ডক্টর রাজেন্দ্র বারভে বলেন সঠিক প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সব ধারনায় ভিত্তিহীন সবাই ভেবেছিল এই গবেষণায় সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে কিন্তু কিছু মানুষ আমাদের উপর ভরসা রেখেছিলেন বাকিটা আমরা প্রমান করে দিয়েছি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা তথ্য মতে ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় ১ কোটি মানুষ অর্থাৎ প্রতি ছয় জনের মধ্যে একজন মারা যাচ্ছে ক্যান্সারে। ভারতের ফুট সেফটিয়ার স্ট্যান্ডার থেকে অনুমোদন পেলে জুন মাস থেকে বাজারে পাওয়া যাবে ক্যান্সারে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কমানোর এই ট্যাবলেট। তবে ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তি রোধের ওষুধটি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে সময় প্রয়োজন আরো পাঁচ বছর।

শিক্ষা প্রযুক্তি স্বাস্থ্য ও দেশ-বিদেশের সকল তথ্য ও খবরাখবর জানতে চোখ রাখুন কলেজ টু ইউনিভার্সিটি পেজ এবং ওয়েবসাইটে।

Leave a Comment