করোনার পর এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা


গেলো করোনা ভাইরাসের জন্য এলোমেলো হয়ে পড়েছিলো দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। এবং দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এবং কিছু না শিখেই এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। এলোমেলো হয়ে পড়ে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচিও। পরীক্ষা নিতে যেমন দেরি হয়।তেমন পরীক্ষা নেওয়া হয় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসেও। সেই রেশ কাটিয়ে এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা।

আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ছাত্রজীবনের প্রথম ধাপ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।বাংলা প্রথমপত্র দিয়ে শুরু হবে পরীক্ষা। এদিন সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত সারাদেশের তিন হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসবে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী। তবে গত বছরের চেয়ে এবারের এসএসসিতে প্রায় অর্ধ লাখ পরীক্ষার্থী কমেছে। আর বরাবরের মতো ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি।

শিক্ষকরা বলছেন, এবার পরিপূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা হলেও শিক্ষার্থীদের খুব একটা সমস্যা হবে না।কারণ এবার যারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, তারা নবম শ্রেণিতে উঠেছিল ২০২২ সালে। ওই সময় বছরের শুরুতে কয়েক সপ্তাহ এর মতো স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছিল। তারপর থেকে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চলেছে। যার ফলে শিখন ঘাটতি থাকছে না।

জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে করোনার কারণে সারাদেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওই বছর এসএসসি পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হলেও আটকে যায় এইচএসসি পরীক্ষা। বাধ্য হয়ে এইচএসসিতে পরীক্ষাতে ‘অটো পাস’ দেওয়া হয়। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই বছর শুধু তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে তত্ত্বীয় পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালেও পুনর্বিন্যাস করা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা হয়। ২০২২ সালের এসএসসিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিতের মতো আবশ্যিক বিষয়েও পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে বিভাগ ভেদে অন্তত তিনটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। আর সর্বশেষ ২০২৩ সালে সব বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হলেও সিলেবাসটি ছিল সংক্ষিপ্ত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজধানীর ধানমন্ডির গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন তালুকদার বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পুরোদমেই ক্লাস পেয়েছে। ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন সময়ে ছুটি কাটছাঁটও করেছে সরকার। সবমিলিয়ে কোনো ঘাটতি থাকারই কথা নয়। আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি অনেক ভালো।

তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহরীন খান রূপা বলেন, ‘এবার সিলেবাস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ক্লাস হয়েছে পর্যাপ্ত। শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই জানতো। সেজন্য ওরা সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করেছে। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা হলেও ওরা স্বাভাবিক ফল করবে বলে আশা করছি।’
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘দেখুন, ২০২২ সালের জানুয়ারিতেও কিন্তু করোনার কারণে কয়েক সপ্তাহ স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল। আবার এবার যারা পরীক্ষা দিচ্ছে, তারা নিম্নমাধ্যমিক পর্যায় অর্থাৎ ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম করোনার মধ্যেই কাটিয়েছে। ফলে ভিত নড়বড়ে থাকার যে ব্যাপারটি, তা কিন্তু থাকছেই। তবুও আমরা আশাবাদী যে এবার পরীক্ষার্থীরা পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েই পরীক্ষায় বসছে এবং ভালো ফল করবে।’

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন যে, করোনায় ক্ষতির মুখে শুধু বাংলাদেশের শিক্ষাই নয়, বিশ্বের সব দেশই এ সমস্যায় ভুগছে। আমরা এরই মধ্যেই উলটপালট হওয়া সূচি স্বাভাবিক সময়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসেই আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি। পরিকল্পনা মেনে কাজ করাতে এটা সম্ভব হয়েছে।’

এবার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কোনো শিখন ঘাটতি নেই বলে দাবি করে তপন কুমার সরকার আরও বলেন, ‘এবারের পরীক্ষার্থীরা যখন ক্লাস টেনে (দশম শ্রেণি), সেসময় জানুয়ারিতে কিছুদিন স্কুল বন্ধ ছিল। এমনিতেই আমাদের শিক্ষাবর্ষের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ক্লাস কম হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে নিরবচ্ছিন্ন ক্লাস হয়েছে। রমজানেও ছুটি কমিয়ে ক্লাস নেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ভালোভাবেই শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পেয়েছে। কোনো ঘাটতি দেখছি না।’

কমেছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা:

গত বছরের তুলনায় এবার এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। ২০২৩ সালে এ পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছিল ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন। সেই হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৪৭ হাজার ৯৭১ জন। এ বছর অর্থাৎ, ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন। পরীক্ষার্থী কমায় এবার কেন্দ্র সংখ্যাও কমিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর।গত বছর তিন হাজার ৮১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৭০০টিতে।

ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী বেশি:

গত কয়েক বছরের মতো চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায়ও ছাত্রের চেয়ে ছাত্রী সংখ্যা বেশি। ১১টি বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৯২ হাজার ৮৭৮ এবং ছাত্রী ১০ লাখ ৩১ হাজার ৩১৪ জন।

৯টি সাধারণ বোর্ডের ১৬ লাখ ৬ হাজর ৮৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যেও ছাত্রীরা সংখ্যায় বেশি। এই ৯ বোর্ডে ছাত্র ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭২৩ জন আর ছাত্রী ৮ লাখ ৫১ হাজার ১৫৬ জন। সে হিসাবে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রী প্রায় এক লাখ বেশি।

মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায়ও ছাত্রী বেশি:
দাখিলে ছাত্র ৯৪ হাজার ৮৪১ আর ছাত্রী সংখ্যা ৩১ হাজার ৫৩২ জন। তবে কারিগরি বোর্ডে ছাত্রীর চেয়ে ছাত্র তিনগুণ বেশি। এ বোর্ডের অধীনে মোট এক লাখ ২৬ হাজার ৩৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯৪ হাজার ৮৪১ আর ছাত্রী ৩১ হাজার ৫৩২ জন।

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে পেজে লাইক দিয়ে চোখ রাখুন কলেজ টু ইউনিভার্সিটি তে

করোনার পর ১ম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এসএসসি, পরীক্ষায় বসছে ২০ লাখ পরীক্ষার্থী
অবশেষে এসএসসির প্রবেশপত্র পেলো শেরপুরের ১৪ শিক্ষার্থী
দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
আট বিভাগে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস
পরীক্ষা না দিতে পারলে আত্মহত্যা করব: প্রবেশপত্র না পাওয়া ছাত্রী
বিজ্ঞানের পরীক্ষার্থী পেলো বাণিজ্যের প্রবেশপত্র, স্কুলে বিক্ষোভ
প্রবাসে বসে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে ৩৫২ শিক্ষার্থী
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের ভেতরে প্রবেশ নিষেধ
নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই

Leave a Comment