কৃষিশিক্ষা পরিক্ষার ৬২ টি খাতা হারিয়ে ফেলেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

কৃষিশিক্ষা পরিক্ষার ৬২ টি খাতা হারিয়ে ফেলেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

নবম শ্রেণির ২০২৩ সালের বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬২ জন পরীক্ষার্থী। তারা
পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার লোকমান হাকিম মেমোরিয়াল টেকনিক্যাল হাই-স্কুলের অন্তর্গত। এদের মধ্যে ১০টি বিষয়ে পাস করে ৬০ জন। অনেকেই ভালো গ্রেড নিয়েই পাস করে । আর দুই জন ধর্ম বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়। কিন্তু ঐচ্ছিক বিষয় কৃষিশিক্ষায় ৬২ ছাত্রের সবাই ফেল করে। এভাবে ফেল করার কারণ জানার চেষ্টা করছেন প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এই ঘটনার কোনও দায়ভার নিতে চাচ্ছে না তাদের দাবি, কেন্দ্র থেকে হাজিরা শিট পাঠানো হয়নি। আর কেন্দ্র বলছে, শিট না পাঠানোর কোনও কারণই নেই।
এই ঘটনায় লোকমান হাকিম মেমোরিয়াল টেকনিক্যাল হাই-স্কুলের পক্ষ থেকে শিক্ষা বোর্ডের কাছে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। বরাবর খাতা পুনঃনিরীক্ষণ করে ফলাফল প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হাকিম।

গত ৩০ জানুয়ারি লেখা চিঠিতে প্রধান শিক্ষক বলেন, পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার নবম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্র নম্বর-২৬০০২। এই কেন্দ্রের লোকমান হাকিম মেমোরিয়াল টেকনিক্যাল হাই-স্কুলের সমাপনী পরীক্ষা-২০২৩ এর ফলাফলে ঐচ্ছিক বিষয়ে (কৃষি শিক্ষা) সব ছাত্রছাত্রীকে ফেল দেখানো হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হাকিম বলেন, যেসব ছাত্র ফিজিক্স, ক্যামিস্ট্রিতে পাস করেছে, তারা কৃষি শিক্ষা তেও ফেল করেছে। তাও ৬২ জনের সবাই ফেল করেছে এটা হতে পারে না। হয়ত শিক্ষা বোর্ড খাতা হারিয়ে ফেলেছে অথবা খুঁজে পায়নি। সব হাজিরা আরও বলেন, আমি শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করেছি। শিক্ষা বোর্ড কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে যেতে বলেছে।বাংলা ট্রিবিউন।
বোর্ড পরীক্ষা কেন্দ্রকে দোষ দিয়ে বলছে, তারা বোর্ডে হাজিরা শিট পাঠায়নি। আর কেন্দ্র বলছে, আমরা হাজিরা শিটসহ সব পাঠিয়ে দিয়েছি। একটি পাতায় ১১টি সাবজেক্টের সব হাজিরা থাকে।

প্রধান শিক্ষক আজিজুল হাকিম

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর খান বলেন, ‘আমার বিষয়টি জানা নেই। প্রধান শিক্ষক আসুক, আমি বিষয়টি দেখি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আছেন। তাদের মতামত নেই।’

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভোকেশনাল) প্রকৌশলী জাকারিয়া আব্বাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে যথাযথ উত্তর দেননি। লোকমান হাকিম মেমোরিয়াল টেকনিক্যাল হাই-স্কুলের ৬২ জন পরীক্ষর্থীর সবার ফেল করার বিষয়ে জানতে চাইলে জাকারিয়া আব্বাসী বলেন, ‘তাতে আপনার সমস্যা কী? পরীক্ষা তো আপনি দেননি। পরীক্ষা তো ছাত্ররা দিয়েছে।’ এক পর্যায়ে ‘ফোন রাখেন’ বলে তিনি লাইন কেটে দেন।
তবে ফলাফলপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক ছাত্রছাত্রী জিপিএ ৪.৯২, ৪.৮৫ ও ৪.৮০ পেয়েছে। তাদের ফলাফল পুণ্যনিরীক্ষণ করতে হবে এমন দাবি জানান।

Leave a Comment