প্রচন্ড গরমে স্টক হওয়ার আগের লক্ষণগরমে সুস্থ থাকতে কি করবেন

সারাদেশে প্রচন্ড গরমে বেহাল দশার জনজীবনে । দেশের তাপমাত্রা যেন আগ্নেয়গিরিতে রূপান্তরিত হয়েছে। চল্লিশ ডিগ্রির উপরে রয়েছে তাপমাত্রা। এবং এই গরমে হিট স্ট্রোকে বেশ কয়েকজন মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আর এই হিট স্ট্রোক কোন দুর্বল মানুষ নয় যেকোনো সবল এবং সাধারণ মানুষেরই হতে পারে এই গরমে। যদি মানুষের শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রির বেশি হয়ে যায় তাহলে এই ঘটতে পারে হিট স্ট্রোকের মতো জটিল সমস্যা । এবং প্রাণহানিও ঘটতে পারে। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে চলুন আগে জেনে নেয়া যাক তীব্র গরমে হিট স্ট্রোক সহ বিপদের লক্ষণ গুলো কি কি

প্রচন্ড গরমে স্ট্রোক সহ আরো কিছু অসুস্থতার ঝুঁকিয়ে বেড়ে যায় জরুরি অবস্থা হলে করণীয় কি সেটা নিয়েও এই আর্টিকেলে আলোচনা করব। কিভাবে আগে থেকে বুঝতে পারবেন হিট স্ট্রোকের লক্ষণ এবং আপনার আশেপাশের মানুষের স্ট্রোক হচ্ছে এবং সেই মুহূর্তে ঠিক কি কি কাজ করা উচিত এই সম্পর্কে আমাদের এই লেখাটা তাই দেরি না করে এই লেখাটি মনোযোগ দিয়ে শুনুন হয়তো এই লেখাটির মাধ্যমে যে কারো জীবনও বেঁচে যেতে পারে। প্রথমে শুরু করা যাক বিপদের চিহ্নগুলো কি কি

প্রথম যে বিপদ চিহ্নটি সেটি হচ্ছে আপনি বা আপনার আশেপাশে মানুষের যদি শরীরের ঘাম কমে যায় কিংবা প্রচন্ড গরম কিন্তু আপনার শরীরের কোন ঘাম হচ্ছে না এটি কিন্তু একটি বিপদ চিহ্ন এবং এটি একটি হিট স্ট্রোকের লক্ষণ। এমন যদি হয় তাহলে দ্রুত হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাবেন।

খুব গরমে কেউ কনফিউজ হয়ে যেতে পারে অর্থাৎ আপনি যেটা বলছেন সেটা সেই ব্যক্তিটা বুঝতে নাও পারে কিংবা সে যেটা বলছে সেটা আপনি বুঝতে পারছেন না তার কথার তেমন কোনো অর্থ আপনি বুঝতে পারছেন না এটাও কিন্তু একটি হিট স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। এমন হলে দ্রুত ডক্টরের কাছে নিয়ে যান।

আরেকটা লক্ষণ হচ্ছে ঘন ঘন শ্বাস প্রশ্বাস নেয়া এমনও হতে পারে গরমের কারণে বুক ধরফর করা শুরু হতে পারে। খিচুনি হতে পারে বমি বমি লাগতে পারে কিংবা বমিও হয়ে যেতে পারে অতিরিক্ত গরমের কারণে রোগী অজ্ঞান ও হয়ে যেতে পারে। এগুলোই মূলত হিট স্ট্রোকের আসল লক্ষণ এগুলো হলে খুব দ্রুত হাসপাতালে কিংবা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন।

এবং নিয়ে যেতে যেতে রোগীকে ঠান্ডা করার জন্য কয়েকটি কাজ করতে হবে যাতে তার বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। সে কাজগুলোর মধ্যে হল প্রথমে তাকে গরম জায়গা থেকে একটু ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে যেখানে ছায়া আছে ফ্যান চলছে বা ঠান্ডা কোন জায়গায়। যদি সেটাও নিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা না হয় তাহলে সে যেখানে রয়েছে সেখানে ঠান্ডা করার ব্যবস্থা করতে হবে। কিংবা হাত পাখা দিয়ে বাতাস দিতে হবে। তারপর তার কাপড়চোপড়ের দিকে লক্ষ্য করবেন সে যদি অতিরিক্ত কাপড়চোপড় পড়ে থাকে তাহলে সেগুলো খুলে ফেলবেন যেগুলো খুলে ফেলা সম্ভব। এতে রোগীর শরীরটা একটু ঠান্ডা হবে। এবং পানি দিয়ে শরীর টি ঠান্ডা করার চেষ্টা করতে হবে গায়ে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। কিংবা একটি কাপড় পানি দিয়ে ভিজিয়ে রোগীর শরীরটা মুছে দিতে হবে। যদি আশেপাশে বরফ পান তাহলে সেই বড়ফ রোগীর গায়ে দিয়ে দিতে পারেন এতে রোগীর শরীর ঠান্ডা হবে।

এবং রোগীর যদি পানি খাওয়ার মত অবস্থা থাকে তাহলে তাকে পানি খেতে বলবেন। পানি ছাড়া তরল জাতীয় কিছু জিনিস খাওয়ালেও হবে যেমন ডাবের পানি নারকেলের পানি ওর স্যালাইন ইত্যাদি। এবং রোগীকে ঠান্ডা করতে করতে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

এটা হচ্ছে সবচেয়ে বিপদজনক অবস্থার কথা বললাম হিট স্ট্রোক তবে হিট স্ট্রোক হওয়ার আগেও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে চলুন দেখে নেয়া যাক সেই লক্ষণ গুলো কি । এই হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো যদি আপনি দেখতে পান তাহলে কিছু পদক্ষেপ নিলে রোগীকে বাঁচাতে পারবেন।

হিট স্ট্রোকের আগের লক্ষণ হচ্ছে মাথা ঘোরাতে পারে রোগীর। মাথা হালকা হয়ে যেতে পারে অনেকে বলে শূন্য হয়ে যায় এবং অজ্ঞান হয়ে যাবে এখনই এমন অনুভূতি হয়। গায়ে প্রচন্ড পরিমাণে ঘাম হতে পারে মনে হয় চামড়া একদম ঘামে ভিজে গেছে।

বমি বমি হতে পারে।

তাছাড়া অনেক গরম লাগা অস্বস্তি লাগা এরকম লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

এই লক্ষণ গুলো যদি দেখা দেয় তাহলে একটু আগে যে কাজগুলো লিখলাম সে কাজগুলো করতে পারেন এবং অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

আর যদি মনে হয় মাতা হালকা হালকা হয়ে গেছে তাহলে রোগীকে শুইয়ে দেবেন এবং পা টা উপরে উঠিয়ে দেবেন। এতে রোগী কিছুটা স্বস্তি পাবে। রোগীর চারপাশে ঘিরে রাখবেন না একটু বাতাসে রাখবেন। এতে আধা ঘন্টার মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারে। যদি তাতেও রোগী সুস্থ না হয় তাহলে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।

এই গরমে বেশি বেশি তরল জাতীয় পানিও পান করুন।

হিট স্ট্রোকের প্রধান লক্ষ্ন

মাথা ব্যথা

বমি হওয়া

শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া

গরম লাগলেও ঘাম কম হওয়া।

হদ স্পন্দন বেড়ে যাওয়া

হিট ঝুঁকিতে সাধারণত যেসব বয়সের রোগীরা বেশি থাকে তারা হচ্ছে শিশু প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বয়স্ক যারা রয়েছে তারা যাদের ওজন তুলনামূলক বেশি কিংবা যারা শারীরিকভাবে অসুস্থ বা হৃদরোগে আক্রান্ত তাদের এই ঝুঁকিতে বেশি রয়েছে।

আরো কিছু পরামর্শ

হিট স্ট্রো প্রতিরোধে আপনারা যেটা করবেন সেটা হচ্ছে দিনের বেলা রোদ্রে কম বেরোনোর চেষ্টা করবেন।

এবং বাইরে যদি বের হতেই হয় তাহলে ছাতা বা টুপি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখবেন।

মাঝে মাঝে পানি ঝাপটা দেবেন

বেশি অসুস্থ বোধ করো দূরত্ব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে

উপরোক্ত এ কাজগুলো করলে আপনারা হিট স্ট্রোক থেকে বেঁচে যেতে পারেন। এবং কোন ব্যক্তির হিট স্ট্রোক হলে সাথে সাথে এই ব্যবস্থাগুলো করলে রোগীকে বাঁচাতে পারবেন। ধন্যবাদ

এমন আরো সকল খবরাখবর পেতে চোখ রাখুন কলেজ টু ইউনিভার্সিটি ওয়েবসাইটে

Leave a Comment