বেইলী রোডের ঘটনায় প্রাণ-হারালেন যারা

বেইলী রোডের ঘটনায় প্রাণ-হারালেন যারা

বেইলি রোডে প্রাণ হারানো প্রায় ৫০ টি তাজা প্রাণ একদিন আগেও পৃথিবীর বুকে নিঃশ্বাস নিয়েছেন। নিয়তির নির্মম পরিহাসে তারা এখন শুধুই স্মৃতিতে। কেউ মেয়েকে হারিয়েছেন কেউ হারিয়েছেন তিন বছরের আদরের সন্তানকে। শুধু কি তাই? গোটা একটা পরিবারে তো শেষ হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ই সরাইল উপজেলায় ইতালি প্রবাসী মোবারক হোসেন এবং তার পরিবারের 4 সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। ইতালি প্রবাসী ও ব্যবসায়ীর সৈয়দ মোবারক হোসেন সুযোগ পেয়েছিলেন স্থায়ীভাবে সে দেশে থাকার। মাসখানেক আগে দেশে এসেছিলেন কথা ছিল স্ত্রীর সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ইতালি যাবেন।
ভিসা ও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু আর যাওয়া হলো না । পরিবারের আর কেউই বেঁচে রইল না। রাজধানীর মধুভাগ থেকে স্ত্রী স্বপ্না দুই মেয়ের সৈয়দা কাশফিয়া ও সৈয়দা নুর এবং একমাত্র ছেলে সৈয়দ আব্দুলাহ কে নিয়ে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলেন মোবারক কে জানত এভাবে একটা পরিবার শেষ হয়ে যাবে। তাদের গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া । স্বজনদের মাতম থামছেই না। ২০২৪ সালের পহেলা মার্চ বাদ আসর তাদের দাফন করা হয়েছে। এদিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন বুয়েট শিক্ষার্থীর লামিসা ইসলাম, পুলিশ কর্মকর্তা বাবা নির্বাক হয়ে আছেন। লামিসা বুয়েটের যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। ২০১৮ সালের অসুস্থতার কারণে তার মা না ফেরার দেশে চলে যান। এরপর আমি ছাড় বাবা আর বিয়ে করেননি। মেধাবি লামিসা পড়াশোনা করেছেন ভিকারুন্নেসা তে। স্বপ্ন ছিল বুয়েটে ভর্তি হবেন। বুয়েটের স্বপ্নপূরণ হলেও বেঁচে থাকাটা তার আর হলো না। লামিসার মত বুয়েটে আরেক শিক্ষার্থী নাহিয়ান আমিন ও প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইশ ব্যাচের শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে বেইলি রোডের ট্রাজেডি তে ১২ জন শিক্ষক শিক্ষার্থী না ফেরার দেশে চলে গেছেন। এর মধ্যে একজন শিক্ষক বাকি ১১ জন শিক্ষার্থী। এতে একসঙ্গে সাত বান্ধবীরও ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন তারা। একই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকার লুৎফুর নাহার করিম এবং তার মেয়ে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতী তাজরীন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্র তুষার হাওলাদারো আর ফিরবে না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংবাদিকতা বিভাগের ৩৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। আরো আছেন মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নামের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী তিনি এমবি এর ২০১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। বেইলি রোডের বিখ্যাত এক ভবনে দুই শিশুসন্তানসহ খাবার খেতে গিয়েছিলেন ৩২ বছর বয়সী নাজিয়া আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন না যেয়ার পরিচিত আরও তিনজন তাদের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। নাজিয়া দুই শিশুসন্তান হল সাত বছর বয়সী আরহান আহম্মেদ। এবং তিন বছর বয়সী আবিয়াত আহমেদ। ভবনটিতে একাধিক দোকান আছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে খাবারের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় হয়। অনেকের পরিবার নিয়ে সেখানে খেতে যান। নাজিয়াও দুই বাচ্চা নিয়ে গিয়েছিলেন আর সবার মত তিনিও জানতেন না এই যাওয়াটা কাল হয়ে দাঁড়াবে। ঘটনাস্থলে তিনি তার স্বামীকে সহায়ক আহমেদ আশিক কে ফোন দিয়েছিলেন ফোনে তিনি জানিয়েছিলেন ভবনে হুড়োহুড়িতে ছোট ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। পরে নাজিয়াকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। নাজিয়ারা থাকতে রাজধানীর বেইলী রোডেই। এভাবে ঝরে গেছে অভিশ্রুতি নামে একটি নারী সাংবাদিকেরও প্রাণ। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির কাছেই বাসা। বেইলি রোডের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে তিনবার চিঠি দিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। চিঠির বিষয়টি আমলে নিলে হয়তো এতগুলো প্রাণ ঝরে যেত না।

শিক্ষা প্রযুক্তি ও দেশ-বিদেশের নানান রকম খবর পেতে চোখ রাখুন কলেজ টু ইউনিভার্সিটি পেজে।

Leave a Comment