মন নিয়ে কিছু কথা

মন বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ উক্তি যা আমাদের জীবনে প্রতি ক্ষেত্রে কাজে লাগবে…..

মানব জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ যে জিনিসটি সেটি হচ্ছে মন। মন হিন মানুষ একটি যন্ত্রের মত। অর্থাৎ যার মন নেই সে কখনো মানুষ হতে পারে না। মানব দেহের ইন্দ্রিয় গুলোর মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ইন্দ্রিয় হচ্ছে মন। উদাহরণ স্বরূপ মানুষের শরীর হলো একটি রথ আর এই রথ কে যে চালনা করে সেটা হচ্ছে মন। অর্থাৎ এই মন নামক রথ যেদিকে চলছে আমরাও সেদিকেই ছুটে চলছি।যখন আমাদের মন খারাপ থাকে তখন আমাদের কিছুই ভালো লাগেনা এবং আমরা নিজেদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। অকারনে রাগ করে বসি হয়তো মানুষের সাথে খারাপ আচরণও করে ফেলি। তখন আমাদের বিবেক বুদ্ধির লোভ পায়। সুতরাং মনের সাথে আমাদের আচরণেরও সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের মন যখন ভালো থাকে আমাদের আচরণের উপরও তখন পরিবর্তন হয়। অর্থাৎ তখন আমরা মানুষের সাথে ভালো আচরণ করি, ভালো ব্যবহার করি। আর যখন মন খারাপ থাকে তখন ভালো কথাও আমাদের কাছে খারাপ লাগে আমরা মেজাজ হারিয়ে ফেলি। অর্থাৎ আমাদের আচার-আচরণ ব্যবহার আবেগ বিবেক কথাবার্তা সবকিছুই মন নিয়ন্ত্রণ করছে।
আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই ষড়রিপু থাকে। যেমন কাম, ক্রোধ ,লোভ ,মোহ ,মর্দ ,মৎসর্য। এই রিপু গুলো আমাদের ভুল পথে চালনা করে। আর এই গুলোকেউ নিয়ন্ত্রণ করে মন। অর্থাৎ আমাদের ভালো-মন্দ সব কিছুই মনের উপর নির্ভরশীল। মানুষের মন বড়ই চঞ্চল হয়ে থাকে। এই চঞ্চল মনই কখনো আমাদেরকে আলোর পথে নিয়ে যায়। আবার এই মনে আমাদেরকে নিমজ্জিত করে অন্ধকারে। এটি নির্ভর করছে আমরা মন কে কতটুকু বুঝতে সক্ষম হয়েছি এবং কতটুকু মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি তার ওপর। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা মনকে নিয়ন্ত্রণ করছি, নাকি মন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে? যদি মন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তাহলে সেটি আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর একটা দিক। কারণ মনের গতি প্রকৃতি বোঝা অনেক কঠিন কাজ। মন সব সময় আমাদের সঠিক পথেই যে চালনা করবে তা কিন্তু নয় যদি মন আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে বা আমাদের সত্তা কে নিয়ন্ত্রণ করে তাহলে মন যদি আমাদের ভুল পথেও নিয়ে যায় আমাদের সেই দিকেই ছুটতে হবে। তাই আমাদের উচিত নিজেরাই নিজেদের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা। এবং মনের উপর আমরা যদি নির্ভরশীল হই তাহলে মনই আমাদের উপর নিয়ন্ত্রণ করবে। তাই মনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমাদের উচিত মনের উপর নির্ভরশীলতা কমানো। এবং নিজেদের মনকে বোঝার চেষ্টা করা। কারণ নিজের মনকে যদি আমরা বুঝতে পারি তাহলেই আমরা মনকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায় খুঁজে পাবো। আমাদের বিবেক বুদ্ধি চেতনা এইগুলোও মনের অংশ। তাই আমাদের উচিত আমাদের বিবেক বুদ্ধি চেতনা দিয়ে নিজের মনকে বোঝার চেষ্টা করা।নিজের মনকে বোঝাও অনেক কঠিন কাজ। কারণ আমাদের এই চঞ্চল মন কখনো কখনো আমাদের আয়ত্তের মধ্যে থাকে না। কখনো কখনো ভাবনার অতল সাগরে নিয়ে যায় আমাদের। আবার কখনো কখনো খারাপ চিন্তার মাধ্যমে আমাদের নিয়ে যায় গভীর অন্ধকারে। কখনো কখনো কারণ ছাড়াই মন খারাপ হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো বিনা কারণেই মন আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। এ যেন এক লাগামহীন ঘোড়া। সর্বদাই নিজের মতো ছুটে চলে। আমরা প্রত্যেকেই নিজেকে চিনতে চাই নিজেকে জানতে চাই নিজের মনের সকল কিছু উপলব্ধি করতে চাই। কিন্তু আগেও আমরা নিজেকে কি জানতে সক্ষম হই? হই না কারণ আমাদের অনিয়ন্ত্রিত মন আমাদের সঙ্গ দেয় না। মন যেটা চাই আমরা কি সর্বদাই সেটা করতে পারি? পারিনা কারণ কখনো কখনো মন সমাজের বিরুদ্ধেও কাজ করে। ভাবনা ভাবে। রাতে আমরা যে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখি এর মধ্যেও মনের একটা কানেকশন রয়েছে। আমরা দিনে মনে মনে যা ভাবি যা চিন্তা করি তাই আমরা রাতে স্বপ্নের মাধ্যমে আমরা সেটা দেখি। তাই বলতে গেলে মন আমাদের সমগ্র জীবনকেই নিয়ন্ত্রণ করছে। আমাদের আবেগ বিবেক স্বপ্ন কল্পনা চেতনা সবকিছুর মধ্যেই এই মন জড়িয়ে রয়েছে। মনের সাথে আমাদের আচরণগত দিকো জড়িয়ে রয়েছে। অর্থাৎ আমরা ভালো আচরণ বা খারাপ আচরণ এই মনের দ্বারাই করে থাকি।মনকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। আজ পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানী মনকে ধরতে বা ছুঁতে পারেননি। তবুও মন আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ আমাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ।মন হচ্ছে উপলব্ধি করার বিষয়। যারা নিজের মনকে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন তারা নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে মন এবং আত্মা কিন্তু এক নয়। মন আমাদের দেহের একটি অংশ।আর আত্মা’ শব্দটি কেবলমাত্র মানুষের অশরীরী বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে। মানুষের মধ্যে আত্মা আছে, কিন্তু আমরা নিজেরা আত্মা নই। আমাদের দেহের ভেতর আত্তা আছে তাই আমরা চলতে পারি কথা বলতে পারি আমরা বেঁচে আছি। কিন্তু এই আত্মা দেহ থেকে নির্গমন হলে আমরা আর বেঁচে থাকব না। তাই আত্মা সবার উপরে। আমাদের দেহের যেমন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সেই রকমই মনও এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রধান অংশ। কিন্তু মনের সাথে আত্মার গভীর সংযোগ রয়েছে।‘মন’ বা ‘প্রাণ’ শব্দ দিয়ে মানুষের অশরীরী এবং শরীরী দু’টি অংশকেই বুঝানো যেতে পারে। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যিনি নিজের মনকে জয় করেছেন সে পরমাত্মাকে লাভ করেছেন, কারণ তার মনে শান্তি বিরাজ করছে। এমন ব্যক্তির জন্য সুখ-দুঃখ শীত-গরম এবং সম্মান-অসম্মান সব একই হইয়ে থাকে। তাই যে যাই বলুক না কেন, সর্বদা নিজের মনকে শান্ত রাখুন, কারণ সূর্য যতই তাপ দিক না কেন, সাগর কখনো শুকিয়ে যায় না। আর এই সাগর ই হচ্ছে আমাদের মন। যারা মনকে নিয়ন্ত্রণ করে না, তাদের জন্য তার মন শত্রুর মতো কাজ করে। দেহ আমরা দেখি, মন দেখি না। আবেগ, অনুভূতি, আচার- আচরণ এবং নানাবিধ ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমেই ‘মনের” চিত্রটি বাইরে বেরিয়ে আসে,আসলে মন ব্রেনেরই অংশ, চিন্তা -চেতনা, বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই ধ্যান, অনুশীলন এবং
আত্মসচেতনতার মাধ্যমেই মনের উপর আধিপত্য
স্থাপন করতে হবে । আত্মাবিশিষ্ট সকল মানুষই হলো প্রাণ বা মন বিশিষ্ট। এর মধ্যে অবস্থিত গভীর অর্থ হচ্ছে- “মন”-ই হচ্ছে “জীবন/প্রাণ”। অর্থাৎ আমাদের জীবনকে যে চালনা করতেছে প্রতিনিয়ত সেটিই আমাদের মন। তাই আমাদের উচিত মনকে সংযত রাখা। মনকে খারাপ চিন্তা থেকে মুক্ত করা।♥️

✍️ দীপান্বিতা দত্ত

Leave a Comment