যেসব লক্ষণে আপনি বুঝবেন বাড়িতে গ্যাস লিকেজ হয়েছে

যেসব লক্ষণে আপনি বুঝবেন বাড়িতে গ্যাস লিকেজ হয়েছে।

আমাদের দৈনন্দিন চাহিদার একটি বড় উৎস হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস। এই গ্যাপ যেমন আমাদের উপকারী একটি জিনিস তেমন এর ভয়াবহতাও আছে। এই জ্ঞান যদি ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তাহলে করতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। কারণ বাড়িতে যেকোনো সময় গ্যাস লিকেজ হতে পারে এই লিকের প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া অতীব ও জরুরি। তাই এ ব্যাপারে আগে থেকে সতর্ক থাকা এবং সাবধানতা মেনে চলা সবার একান্ত কর্তব্য এবং এটি যদি মেনে চলা যায় তাহলে প্রাণ ও সম্পদ সকল কিছুই বাঁচানো সম্ভব। চলুন জেনে নেয়া যাক এ ব্যাপারে কিছু পরামর্শ….

যে সব লক্ষণ চোখে পড়লে আপনি বুঝবেন যে বাড়িতে গ্যাস লিকেজ হয়েছে:
যদি বন্ধ বা আবদ্ধ জায়গায় গ্যাস লিকেজ হয় তাহলে জমে থাকা গ্যাস থেকে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তাই প্রথমেই চলুন জেনে নিয়ে গ্যাস লিখেছেন যে যে লক্ষণ গুলো আমাদের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
১. ঘরে অস্বাভাবিক গন্ধ ঠিক পচা ডিমের মতো
কয়েক ধরনের হাইড্রোকার্বনের এক প্রকার মিশ্রণ হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস। বাস্তবে এটার কোনো গন্ধও নেই কিন্তু মার্কেটের নামক এক প্রকার গন্ধবদ্ধযুক্ত হয়ে একে গন্ধ যুক্ত করা হয়েছে সরস্বতীতে কোথাও যদি গ্যাস লিকেজ হয়, এই গন্ধ নাকে আসে এবং গ্যাস লিকেজ হয়েছে কিনা সহজেই এই গন্ধের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।

২. হিস হিস তীক্ষ্ণ শব্দ:

গ্যাস আবদ্ধ করে রাখা হয় মূলত বাড়িতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারে বা পাইপের উচ্চচাপের মধ্যে। এবং গ্যাস যদি লিখেছ হয় তাহলে এই সিলিন্ডারে উচ্চ চাপের স্থান থেকে গ্যাস আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসে ফলে গ্যাস যখন বের হয় তখন তীক্ষ্ণহীশের শব্দ শোনা যায়। যখন এই ধরনের তীক্ষ্ণ শব্দ শুনতে পান তখনই সতর্ক হোন।

৩. গ্যাসের পাশে ছোট গাছ মরে যাওয়া:
আপনার জ্ঞান যদি লিখে হয় তাহলে ঘরের পাশে বাগানে যে ছোট গাছগুলো আছে সেগুলো অক্সিজেনের অভাবে মরে যেতে পারে। তাই যদি হুট করে ঘরের তবে ছোট গাছ গুলো মরে যেতে দেখেন তাহলে বুঝবেন গ্যাস লিকেস হয়েছে বা হয়েছে কিনা সেটি চেক করবেন।

৪. নানা রকম শারীরিক উপসর্গ:
গ্যাস যদি লিখে হয় তাহলে ঘরে স্বাভাবিক অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে। ফলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং শরীরের চাহিদা অনুযায়ী অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না এই কারণে নানান রকম উপসর্গ যেমন মাথা ঘোরা বমি বমি ভাব এবং মাথাব্যথার মতো শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

গ্যাস লিকের সনাক্ত হলে যা যা করবেন
উপরের লক্ষণগুলো শুনে ও বুঝে যদি নিশ্চিত হন যে ক্লাস নিকেট হয়েছে তাহলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সেগুলোই নিচে উল্লেখ করা হলো।

১. দ্রুত জায়গা ত্যাগ করুন:

যদি বোঝেন গ্যাস লিকেজ হয়েছে তাহলে দূরত্ব সেই স্থান ত্যাগ করুন। এবং থাকা এবং নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিন। যথাসাধ্য ফাঁকা জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করুন

২. বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালাবেন না এবং আগুন জ্বালানো থেকে অবিরত থাকতে হবে:


যদি গ্যাস লিখে যায় তাহলে ছোট্ট একটি আগুনের ফুলকি বা শিখা থেকেও মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড ঘটে যেতে পারে এই কারণে কোনভাবেই বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু করা যাবে না এবং সুইচ চাপবেন না দেশলাইক বা লাইটার দিয়ে কোন কিছু জ্বালানো থেকে বিরত থাকুন।

৩. দরজা জানালা খুলে দিন।

এমন ঘটনা আর সম্মুখীন হলে দ্রুত দরজা-জানলা খুলে দেবে এতে করে বাইরে বাতাস ঘরে প্রবেশ করবে এবং বিপদের আশঙ্কা কমে যাবে।


৪. প্রধান গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দিন।

সিলিন্ডার থেকে যত দ্রুত সম্ভব গ্যাসের পাইপলাইন বা প্রধান সরবরাহ থাকে সেটা বন্ধ করুন।

৫. যত দ্রুত সম্ভব ফায়ার সার্ভিসে ফোন করুন।


যেকোনো অগ্নি কান্ড দেখলে 999 নেফায়ার সার্ভিসে ফায়ার সার্ভিস বাহিনীকে ডাকুন এতে করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবেলা করা সম্ভব।

দুর্ঘটনা ঘটা কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়:

১. নিয়মিত গ্যাস লাইন চেক করুন
২. প্রয়োজন ছাড়া গ্যাস ব্যবহার করবেন না।
৩. প্রয়োজন হলে বাড়িতে কার্বন মনোক্সাইড সনাক্তকারী যন্ত্র লাগাতে হবে।
৪. ঘরে অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র রাখতে হবে।

নানান রকম খবরাখবর এবং তথ্য পেতে চোখ রাখুন কলেজ ইউনিভার্সিটির পেজে

Leave a Comment