মানুষের পতনের মূল কারণগুলোর তালিকা করলে একেবারে উপরের দিকেই থাকবে অহংকার। এটি এমন এক অদৃশ্য ব্যাধি যা মানুষকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়, অথচ মানুষ তা টেরও পায় না। আপনি হয়তো অনেক জ্ঞানী, ধনী বা ক্ষমতাধর হতে পারেন, কিন্তু আপনার মধ্যে যদি বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকে, তবে সেই সব অর্জন মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যেতে পারে। অহংকার মানুষকে একা করে দেয়, প্রিয়জনদের থেকে দূরে ঠেলে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়।
২০২৬ সালে এসে আমরা প্রযুক্তির চরম শিখরে পৌঁছেছি, আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, মানুষের মনে বিনয়ের চেয়ে দম্ভের পরিমাণ বেড়েছে বহুগুণ। আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে আমরা মাটির তৈরি এবং একদিন এই মাটিতেই মিশে যাব। আপনার আশেপাশে হয়তো এমন অনেক মানুষ আছে যারা অহংকারে মাটিতে পা ফেলে না, আবার হয়তো অজান্তেই আপনার মনেও বাসা বেঁধেছে এই বিষাক্ত অনুভূতি।
আজকের এই আয়োজনে আমরা সাজিয়েছি অহংকার নিয়ে উক্তি, দম্ভ এবং ইগো নিয়ে ১৬০টিরও বেশি সেরা উক্তি, স্ট্যাটাস ও ক্যাপশন। এই কথাগুলো কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য নয়, বরং নিজের ও আশেপাশের মানুষের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার জন্য। আসুন, দম্ভের মুখোশ খুলে বিনয়ের আলোয় নিজেকে আলোকিত করি।
অহংকারের সারাংশ ও বাস্তবতা
অহংকার আসলে কী? এটি হলো নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত উচ্চ ধারণা পোষণ করা এবং অন্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। যখন কেউ ভাবতে শুরু করে যে “আমিই সেরা এবং বাকিরা কেউ আমার সমকক্ষ নয়”, তখনই তার পতনের শুরু হয়। অহংকার হলো এমন এক দেয়াল, যা মানুষকে মানুষের কাছ থেকে আলাদা করে রাখে।
ক্ষণস্থায়ী এই জীবনে আমরা যা কিছু নিয়ে গর্ব করি—টাকা, রূপ, ক্ষমতা—সবই সময়ের সাথে শেষ হয়ে যায়। অথচ এই নশ্বর জিনিসগুলো নিয়েই আমরা একে অপরের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হই। অহংকারী মানুষ সাময়িকভাবে নিজেকে বিজয়ী ভাবতে পারে, কিন্তু দিনশেষে সে বড্ড একা। তার আশেপাশে যারা থাকে, তারা হয়তো ভয়ে বা স্বার্থের কারণে থাকে, ভালোবাসার টানে নয়।
বিনয়ী মানুষকে সবাই ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। কিন্তু অহংকারী মানুষকে সবাই ঘৃণা করে, যদিও বা মুখে কিছু বলে না। এই লেখাটির মাধ্যমে আমরা সেই চিরন্তন সত্যটিকেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি যে, অহংকারের পরিণাম কখনোই শুভ হয় না। নিজেকে আয়নায় দেখার এবং শুধরানোর এখনই সেরা সময়।
অহংকার নিয়ে ইমোশনাল উক্তি
অহংকার মানুষকে অন্ধ করে দেয়, ফলে সে তার নিজের ভুলগুলো দেখতে পায় না। হৃদয়ের গভীর থেকে অনুধাবন করার মতো কিছু উক্তি এখানে দেওয়া হলো, যা অহংকারের অসারতা প্রমাণ করে।
মাটির দেহ নিয়ে কীসের এত অহংকার তোমার? আজ যে শরীর নিয়ে গর্ব করছ, কাল তা পোকা-মাকড়ের খাদ্য হবে।
অহংকার হলো আগুনের মতো। এটি অন্যকে পোড়ানোর আগে যে ধারণ করে তাকেই পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।
মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু বাইরের কেউ নয়, তার নিজের ভেতরের অহংকার। এটি তাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে।
যখন তুমি ক্ষমতার শিখরে থাকবে, তখন অহংকার করো না। কারণ সূর্য যখন মধ্যগগনে থাকে, তখন তার পতনের সময়ও শুরু হয়।
তোমার টাকা বা রূপ হয়তো তোমাকে মানুষের সামনে বড় করতে পারে, কিন্তু অহংকার তোমাকে আল্লাহর কাছে ছোট করে দেয়।
বিনয়ী হলে কেউ ছোট হয় না, বরং মানুষের হৃদয়ে তার স্থান আরও উঁচুতে হয়। নদী নিচু দিকে বয় বলেই সে সাগরের সাথে মিলতে পারে।
অহংকার করে হয়তো সাময়িক তালি পাওয়া যায়, কিন্তু মানুষের দোয়া বা ভালোবাসা পাওয়া যায় না।
যাদের জ্ঞান কম, তাদের অহংকার বেশি। ভরা কলস কখনো নড়ে না, কিন্তু শূন্য কলস বেশি বাজে।
মৃত্যু এমন এক সত্য যা সব অহংকারকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। গোরস্তানে গিয়ে দেখো, কত ক্ষমতাধর মানুষ আজ নিঃশব্দে শুয়ে আছে।
অন্যকে ছোট করে কেউ কখনো বড় হতে পারে না। সত্যিকারের বড় মানুষ তিনি, যিনি অন্যকে সম্মান দিতে জানেন।

তোমার আজকের এই অবস্থান চিরস্থায়ী নয়। চাকা ঘোরে, আজ যে নিচে আছে, কাল সে উপরে উঠতে পারে।
অহংকার হলো চোখের ছানির মতো। এটি থাকলে নিজের ভুল দেখা যায় না এবং সত্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না।
আল্লাহ তায়ালা অহংকারীকে পছন্দ করেন না। জান্নাতের দরজায় লেখা আছে—অহংকারীদের জন্য প্রবেশ নিষেধ।
তুমি যদি কাউকে নিচু নজরে দেখো, তবে বুঝে নিও তোমার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে, তোমার ব্যক্তিত্ব নয়।
অহংকারের পাহাড়ে চড়লে সেখান থেকে দৃশ্য দেখা যায় ঠিকই, কিন্তু মানুষের কান্না শোনা যায় না।
সম্পর্কের মাঝে অহংকার ও ইগো
ভালোবাসা বা বন্ধুত্বের মাঝে যখন ইগো বা অহংকার চলে আসে, তখন সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সম্পর্কের ফাটল ও অহংকার নিয়ে কিছু বাস্তব কথা।
ভালোবাসায় কোনো শর্ত থাকে না, কিন্তু অহংকার থাকলে সেখানে ভালোবাসার মৃত্যু ঘটে।
সম্পর্কে “আমি” শব্দটা যখন “আমরা” এর চেয়ে বড় হয়ে যায়, তখনই বিচ্ছেদের ঘণ্টা বাজে।
ঝগড়া হলে যে আগে কথা বলে সে ছোট হয় না, বরং সে সম্পর্কটাকে নিজের ইগোর চেয়ে বেশি মূল্য দেয়।
অহংকারের কারণে আমরা অনেক সময় প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে ফেলি, যা পরে সারাজীবন আফসোসের কারণ হয়।
ক্ষমা চাইতে গেলে কেউ ছোট হয় না। ক্ষমা চাওয়া হলো শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের পরিচয়, আর অহংকার হলো দুর্বলতার লক্ষণ।
তুমি যদি তর্কে জেতার জন্য অহংকার দেখাও, তবে তুমি তর্কে জিতবে ঠিকই কিন্তু মানুষটিকে হারাবে।
ভালোবাসার মানুষের কাছে মাথা নত করা সম্মানের হানি নয়, বরং এটি ভালোবাসার গভীরতা।

ইগোর লড়াইয়ে কেউ জেতে না, শুধু সম্পর্কটা হেরে যায় এবং দূরত্ব তৈরি হয়।
যে ভালোবাসতে জানে, সে অহংকার করতে পারে না। ভালোবাসা আর অহংকার একসাথে থাকতে পারে না, যেমন আলো আর অন্ধকার থাকে না।
তোমার নীরবতা যদি অহংকারের কারণে হয়, তবে সেই নীরবতা মানুষকে দূরে ঠেলে দেবে। আর যদি ধৈর্যের কারণে হয়, তবে তা সম্মান বয়ে আনবে।
প্রিয় মানুষটির চোখের জলের চেয়ে যদি তোমার জেদ বা অহংকার বড় হয়, তবে তুমি ভালোবাসার যোগ্য নও।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে ইগোকে বিসর্জন দিতে হবে। মনে রেখো, মানুষটা গুরুত্বপূর্ণ, তোমার জেদ নয়।
অহংকার করে দূরে সরে থাকার চেয়ে, বিনয়ী হয়ে কাছে থাকা অনেক বেশি শান্তির।
ভালোবাসার মানুষকে ছোট করে নিজেকে বড় প্রমাণ করার মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই, আছে কেবল নিচতা।
ইগো হলো ধুলোর মতো, এটি চোখের সামনে থাকলে কিছুই পরিষ্কার দেখা যায় না। ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দাও, সব স্পষ্ট হবে।
অহংকার ও পতনের উক্তি
ইতিহাস সাক্ষী, বড় বড় সাম্রাজ্য ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের পতন হয়েছে কেবল তাদের দম্ভের কারণে। পতন ও ধ্বংস নিয়ে কিছু সতর্কবাণী।
অহংকার পতনের মূল। তুমি যত উঁচুতে উঠবে, মাটির সাথে তোমার সম্পর্ক তত নিবিড় রাখা উচিত।
ফেরাউন ডুবেছিল নীল নদে, নমরুদ ধ্বংস হয়েছিল সামান্য মশার কামড়ে। তোমার অহংকারের পতনও সুনিশ্চিত।
সফলতা পেলে মানুষ অহংকারী হয়, আর এই অহংকারই তার ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যে গাছ ঝড়ে নুয়ে পড়ে না, সে গাছই সবার আগে ভেঙে পড়ে। বিনয়ী হলে টিকে থাকা সহজ।
অহংকারের বেলুন যত ফোলাবে, তা ফেটে যাওয়ার শব্দ তত বিকট হবে।
তোমার ক্ষমতা দিয়ে তুমি মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারো, কিন্তু মন জয় করতে পারো না। ক্ষমতা গেলে মানুষ তোমাকে ঘৃণা করবে।

সময় কাউকে ক্ষমা করে না। আজ তুমি যাকে অবজ্ঞা করছ, কাল সময় তোমাকেই অবজ্ঞার পাত্র বানাবে।
পাহাড়ের চূড়ায় বসে ভেবো না তুমি আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছ। মনে রেখো, নামার রাস্তাটা কিন্তু খুব পিচ্ছিল।
অহংকারী মানুষ নিজের ছায়া ছাড়া আর কাউকে পাশে পায় না। বিপদের সময় সে বড্ড একা।
সৃষ্টিকর্তা তাকেই উপরে তোলেন যে নিচে নামতে জানে, আর তাকেই নিচে নামান যে নিজেকে অনেক উঁচুতে ভাবে।
তোমার দম্ভ তোমাকে অন্ধ করে রেখেছে, কিন্তু যেদিন হোঁচট খাবে সেদিন দেখার মতো কেউ থাকবে না।
অহংকারের নেশা মদের নেশার চেয়েও খারাপ। মদ খেলে মানুষ মাতাল হয়, আর অহংকার করলে মানুষ জানোয়ার হয়।
ইতিহাস পড়লে দেখবে, কোনো অহংকারী শাসক শান্তিতে মরতে পারেনি। তাদের শেষটা হয়েছে করুণ।
তুমি যদি ভাবো তুমি অপরিহার্য, তবে গোরস্তানে গিয়ে দেখো। পৃথিবী কারো জন্য থেমে থাকে না।
নিজের প্রশংসা নিজে করো না, ওটা অহংকারের লক্ষণ। কাজ এমন করো যেন পৃথিবী তোমার প্রশংসা করে।
বিনয় বনাম অহংকার নিয়ে উক্তি
বিনয় এবং অহংকার—দুটি বিপরীত মেরু। একটি মানুষকে সম্মানিত করে, অন্যটি লজ্জিত। এই দুইয়ের তুলনা নিয়ে কিছু কথা।
বিনয়ী মানুষ ফলের মতো, পেকে গেলে সে আরও মিষ্ট হয়। আর অহংকারী মানুষ বেলুনের মতো, একটু আঘাতেই ফেটে যায়।
জ্ঞানী মানুষ চেনার উপায় হলো তার বিনয়। বিদ্যার সাথে বিনয় না থাকলে সেই বিদ্যা বিষের সমান।
অহংকার মানুষকে কঠিন করে, বিনয় মানুষকে কোমল করে। আর মানুষ কোমল জিনিসকেই ভালোবাসে।
সমুদ্র এত বিশাল কারণ সে নিজেকে সব নদীর নিচে রেখেছে। তুমিও যদি বড় হতে চাও, তবে বিনয়ী হও।
বিনয় দুর্বলতা নয়, এটি হলো আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে নীরব রূপ।
অহংকারী মানুষ সব সময় নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকে, কিন্তু বিনয়ী মানুষ জানে সে কে, তাই তার প্রমাণের দরকার হয় না।
মাথা নিচু করে চলো, দেখবে হোঁচট খাওয়ার ভয় নেই। মাথা উঁচিয়ে চললে গর্তে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
বিনয় মানুষকে আকর্ষণ করে, অহংকার মানুষকে বিকর্ষণ করে। চুম্বক হতে চাইলে বিনয়ী হোন।
সুন্দর পোশাক পরলে মানুষ সুন্দর হয় না, সুন্দর ব্যবহার ও বিনয় মানুষকে সুন্দর করে।

অহংকারী ব্যক্তি সম্মান দাবি করে, আর বিনয়ী ব্যক্তি সম্মান অর্জন করে।
যে মানুষটি জানে সে কিছুই জানে না, সেই আসলে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী। আর যে সব জানে বলে দাবি করে, সে মূর্খ।
বিনয় হলো অলংকারের মতো, যা ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অহংকার করে তুমি হয়তো রাজা হতে পারবে, কিন্তু বিনয়ী হয়ে তুমি মানুষের হৃদয়ের সম্রাট হতে পারবে।
সততা এবং বিনয়—এই দুটি গুণ যার আছে, তাকে হারানোর ক্ষমতা কারো নেই।
অহংকার তোমাকে একা করবে, আর বিনয় তোমাকে সবার আপন করবে। পছন্দ তোমার।
বিখ্যাত ব্যক্তিদের অহংকার নিয়ে উক্তি
যুগে যুগে মহামনীষীরা অহংকার নিয়ে আমাদের সতর্ক করে গেছেন। তাঁদের কালজয়ী বাণীগুলো আমাদের পথপ্রদর্শক।
শেখ সাদী বলেছেন, “অহংকার এমন এক বোঝা, যা মানুষ সারাজীবন বয়ে বেড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত এই বোঝার নিচেই চাপা পড়ে মারা যায়।”
“মানুষের অহংকার করার মতো কিছুই নেই। সে জন্মায় উলঙ্গ হয়ে, আর মারা গেলে তাকে অন্যের দেওয়া কাপড়ে বিদায় নিতে হয়।” – হুমায়ূন আহমেদ
“বিদ্যা বিনয় দান করে। যে বিদ্যা মানুষকে উদ্ধত করে, তা বিদ্যা নয়, তা হলো অজ্ঞতা।” -চাণক্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “নিজেরে যে ছোট করে, সেই আসলে বড় হয়। আর যে নিজেকে বড় বলে প্রচার করে, সে আসলে ক্ষুদ্র।”
হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, “সবচেয়ে বড় পাপ হলো নিজেকে নিরপরাধ মনে করা এবং অন্যের দোষ খোঁজা। এটি অহংকারের লক্ষণ।”
“নতুন পাওয়া ক্ষমতা আর হঠাৎ পাওয়া ধন—এই দুটি জিনিস মানুষকে পশুতে পরিণত করে যদি না তার মধ্যে বিনয় থাকে।” – উইলিয়াম শেক্সপিয়র
“তোমার প্রথম জয়ের পর বিশ্রাম নিও না। কারণ দ্বিতীয়বার ব্যর্থ হলে মানুষ বলবে তোমার প্রথম জয়টা ছিল কেবল ভাগ্য, আর তখন তোমার অহংকার ভেঙে যাবে।” – এ পি জে আব্দুল কালাম
“বিনয়ী হওয়ার অর্থ হলো সত্যের অন্বেষণ করা। অহংকারী মানুষ সত্যকে ভয় পায়।” – মহাত্মা গান্ধী
“অহংকার এবং জ্ঞান পরস্পর বিরোধী। জ্ঞান যত বেশি, অহংকার তত কম। জ্ঞান যত কম, অহংকার তত বেশি।” – আলবার্ট আইনস্টাইন
লালন সাঁই বলেছেন, “বাড়ির কাছে আরশিনগর, সেথা এক পড়শি বসত করে। আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।” (অহংকারের কারণে আমরা নিজের ভেতরের আত্মাকে চিনতে পারি না)।
ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য ছোট ক্যাপশন
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলার জন্য ছোট ও তীক্ষ্ণ কিছু ক্যাপশন।
আমার কোনো ইগো নেই, কিন্তু আমার আত্মসম্মানবোধ খুব প্রবল।
অহংকার পতনের শব্দ শোনা যায় না, কিন্তু ব্যথাটা খুব তীব্র হয়।
নিজেকে বড় ভাবার আগে, অন্যকে মানুষ ভাবতে শেখো।

আমি মাটির মানুষ, মাটিতেই মিশে যাব। অহংকার আমার সাজে না।
তোমার দম্ভ তোমার কাছেই রাখো, আমার সরলতাই আমার শক্তি।
উঁচু তলায় বসে নিচ তলার মানুষকে অবজ্ঞা করো না, লিফট যেকোনো সময় নষ্ট হতে পারে।
অহংকার দেখিয়ে রাজা হওয়ার চেয়ে, বিনয়ী হয়ে প্রজা থাকা ভালো।
আমার নীরবতা মানে আমি দুর্বল নই, আমি কেবল অহংকারীদের এড়িয়ে চলি।
টাকা পয়সা আজ আছে কাল নেই, ব্যবহারটাই থেকে যাবে।
যে আকাশে ওড়ে সে জানে না, মাটিতে পড়ার আঘাত কতটা যন্ত্রণাদায়ক।
অহংকার? ওটা তো মূর্খদের অলংকার।
মানুষ হতে এসেছি, কারো প্রতিযোগী হতে আসিনি।
বিনয় আমার দুর্বলতা নয়, এটি আমার পারিবারিক শিক্ষা।
গর্ব করো নিজের কাজ নিয়ে, ক্ষমতা নিয়ে নয়।
শেষ ঠিকানায় কোনো ভিআইপি সিট নেই, সবাই সমান।
আত্মসম্মান বনাম অহংকার
অনেকে আত্মসম্মান এবং অহংকারকে গুলিয়ে ফেলেন। এই দুটির পার্থক্য বোঝা জরুরি। আত্মসম্মান হলো নিজের মূল্য বোঝা, আর অহংকার হলো অন্যকে মূল্যহীন ভাবা।
আত্মসম্মান বলে—”আমি এই কাজটা করতে পারি।” অহংকার বলে—”শুধু আমিই এই কাজটা করতে পারি।”
নিজের অধিকার আদায় করা আত্মসম্মান, আর অন্যের অধিকার হরণ করা অহংকার।
কারো কাছে মাথা নত না করা আত্মসম্মান, কিন্তু সবাইকে নিজের পায়ের নিচে রাখা অহংকার।
আত্মসম্মান মানুষকে সাহসী করে, অহংকার মানুষকে বেপরোয়া করে।
নিজের অবস্থান ধরে রাখা আত্মসম্মানের অংশ, কিন্তু নিজের অবস্থান নিয়ে বড়াই করা অহংকারের অংশ।
অহংকার থেকে বাঁচার উপায়
অহংকার একটি মানসিক রোগ। এটি থেকে মুক্তি পেতে হলে নিজের চর্চা প্রয়োজন। নিজেকে বিনয়ী রাখার কিছু উপায়:
১. মৃত্যুকে স্মরণ করুন:
সবসময় মনে রাখুন, এই পৃথিবী ক্ষণস্থায়ী। আপনি যাই অর্জন করুন না কেন, কিছুই সাথে নিয়ে যেতে পারবেন না। এই চিন্তা আপনার মনকে নরম করবে।
২. কৃতজ্ঞতা স্বীকার করুন:
আপনার যা কিছু আছে—মেধা, সম্পদ, বা ক্ষমতা—সবই সৃষ্টিকর্তার দান। নিজের কৃতিত্ব না ভেবে একে উপহার ভাবুন এবং কৃতজ্ঞ থাকুন।
৩. অন্যের কথা শুনুন:
নিজেকে সবসময় সঠিক ভাববেন না। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিন। এতে আপনার ধৈর্য বাড়বে এবং ইগো কমবে।
৪. সাধারণ জীবনযাপন করুন:
বিলাসিতা মানুষকে অহংকারী করে তোলে। যতটা সম্ভব সাধারণ জীবনযাপন করার চেষ্টা করুন এবং সব শ্রেণীর মানুষের সাথে মিশুন।
৫. ক্ষমা করতে শিখুন:
কারো প্রতি ক্ষোভ বা ঘৃণা ধরে রাখবেন না। ক্ষমা করে দিলে মন হালকা হয় এবং অহংকার কমে যায়।
শেষ কথা
জীবনটা খুব ছোট। এখানে অহংকার বা দম্ভ নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই। আজ আপনি যা নিয়ে গর্ব করছেন, কাল তা নাও থাকতে পারে। কিন্তু আপনার ভালো ব্যবহার, বিনয় এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা—এগুলো মানুষ মনে রাখবে।
অহংকারের ভারী বোঝা নামিয়ে ফেলুন, দেখবেন নিজেকে খুব হালকা এবং মুক্ত মনে হচ্ছে। আসুন, ২০২৬ সালে আমরা প্রতিজ্ঞা করি—দম্ভ নয়, বিনয় দিয়ে বিশ্ব জয় করব। নিজেকে ভালোবাসুন, কিন্তু নিজের প্রেমে অন্ধ হবেন না। আপনার জীবন সুন্দর ও অহংকারমুক্ত হোক।
FAQs (সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)
অহংকার এবং আত্মবিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য কী?
আত্মবিশ্বাস হলো নিজের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখা (আমি পারব)। আর অহংকার হলো নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা (শুধু আমিই পারব এবং বাকিরা তুচ্ছ)।
মানুষ কেন অহংকারী হয়?
সাধারণত নিরাপত্তাহীনতা, হঠাৎ পাওয়া সাফল্য, অতিরিক্ত প্রশংসা বা ক্ষমতাবান হওয়ার কারণে মানুষের মনে অহংকার জন্ম নেয়। এটি আসলে এক ধরনের মানসিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
অহংকারী মানুষের সাথে কেমন আচরণ করা উচিত?
তাদের সাথে তর্কে না জড়ানোই ভালো। নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে তাদের এড়িয়ে চলুন অথবা বিনয়ের সাথে তাদের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন।
ভালোবাসায় ইগো দূর করার উপায় কী?
সঙ্গীর সাথে খোলামেলা কথা বলা, নিজের ভুল স্বীকার করা এবং ‘আমি’ এর বদলে ‘আমরা’ শব্দটির চর্চা করলে ভালোবাসায় ইগো থাকে না।
বিনয়ী হলে কি মানুষ দুর্বল ভাবে?
কিছু মানুষ বিনয়কে দুর্বলতা ভাবতে পারে, কিন্তু সেটা তাদের সমস্যা। প্রকৃত জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান মানুষ বিনয়কে শক্তির প্রতীক হিসেবেই দেখে।
ইসলাম ধর্মে অহংকার নিয়ে কী বলা হয়েছে?
ইসলামে অহংকারকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরো কিছু ক্যাপশন
- বাংলা শর্ট ক্যাপশন ! Bangla short caption
- ইউনিক ক্যাপশন বাংলা
- ২০০+ ইসলামিক ক্যাপশন বাংলা স্টাইলিশ
- বাস্তব জীবন নিয়ে স্ট্যাটাস
- জনপ্রিয় ভালোবাসার ছন্দ, স্ট্যাটাস, ক্যাপশন
- 200+ ভাই নিয়ে ক্যাপশন
- একাকিত্ব নিয়ে ক্যাপশন ~ Bengali Quotes
- 500+ স্বার্থপর মানুষ নিয়ে স্ট্যাটাস:তিক্ত কিছু উক্তি স্ট্যাটাস ও ছন্দ
- ২০০+ ভালোবাসার ফেসবুক স্ট্যাটাস ২০২৫
- জীবন বদলে দেওয়া 160+ অনুপ্রেরণামূলক উক্তি সফলতার বাণী
- 150+ নিজেকে পরিবর্তন নিয়ে উক্তি
- 320+ ফেসবুক স্ট্যাটাস Facebook status bangla
- 180+ ছবির ক্যাপশন | Photos Caption
- 230+ স্বপ্ন নিয়ে স্ট্যাটাস








