১৫০+  সম্মান নিয়ে উক্তি:নিজের অবস্থান ও আত্মমর্যাদা নিয়ে বাস্তব কথা

Last Updated on January 29, 2026 by Protik

সম্মান নিয়ে উক্তি:মানুষের জীবনের সবচেয়ে দামী অলংকার টাকা বা সোনা নয়, তা হলো সম্মান। আপনি জীবনে কতটুকু সফল, তার পরিমাপ আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স দিয়ে হয় না; হয় মানুষ আপনাকে কতটা শ্রদ্ধার চোখে দেখে তা দিয়ে। সম্মান এমন এক জিনিস যা জোর করে আদায় করা যায় না, এটি নিজের ব্যক্তিত্ব, সততা এবং অবস্থান দিয়ে অর্জন করে নিতে হয়।

অনেক সময় আমরা অন্যের মন জোগাতে গিয়ে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিই। আবার কখনো নিজের যোগ্য অবস্থান তৈরি করতে না পারায় সমাজের চোখে ছোট হয়ে থাকি। অথচ নিজের কাছে নিজের সম্মান বজায় রাখাটাই বেঁচে থাকার প্রথম শর্ত। আপনি যদি নিজেকে সম্মান করতে না জানেন, পৃথিবী আপনাকে কখনো সম্মান দেবে না।

আজকের এই আয়োজনে আমরা সাজিয়েছি সম্মান এবং নিজের অবস্থান নিয়ে ১৫০টিরও বেশি সেরা উক্তি ও বাস্তব কথা। এই কথাগুলো আপনাকে শেখাবে কীভাবে নিজের মেরুদণ্ড সোজা রেখে বাঁচতে হয়, কীভাবে অবহেলার জবাব নীরবতা দিয়ে দিতে হয় এবং কীভাবে সমাজে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হয়। আসুন, আত্মমর্যাদার এই যাত্রায় নিজেকে নতুন করে চিনি।

সম্মানের সারাংশ ও গুরুত্ব

সম্মান আসলে কী? এটি হলো অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিজের প্রতি আস্থার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। আমরা প্রায়ই ভাবি, ধনী হলেই বুঝি সম্মান পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, টাকা দিয়ে তোষামোদ কেনা যায়, কিন্তু হৃদয়ের শ্রদ্ধা কেনা যায় না। সম্মান হলো আয়নার মতো; আপনি অন্যকে যতটুকু দেবেন, ঠিক ততটুকুই ফিরে পাবেন।

নিজের অবস্থান তৈরি করা মানে কেবল ক্যারিয়ারে সফল হওয়া নয়। নিজের অবস্থান মানে হলো নিজের নীতি ও আদর্শে অটল থাকা। যখন আপনি নিজের মূল্য বুঝবেন এবং সস্তা বিনোদনে নিজেকে বিলিয়ে দেবেন না, তখনই মানুষ আপনাকে সমীহ করতে শুরু করবে। মনে রাখবেন, যেখানে কদর নেই, সেখানে থাকাটা ভালোবাসার প্রমাণ নয় বরং আত্মসম্মানের অভাব।

জীবনকে সুন্দরভাবে সাজাতে হলে আগে নিজের অবস্থান শক্ত করতে হয়। দুর্বল মানুষকে কেউ সম্মান করে না, করুণা করে। আর করুণা নিয়ে বাঁচার চেয়ে মাথা উঁচু করে লড়াই করে বাঁচা অনেক বেশি গৌরবের। এই উক্তিগুলো আপনার সেই লড়াকু মানসিকতা কে জাগিয়ে তুলবে।

আত্মসম্মান নিয়ে সেরা উক্তি

নিজের কাছে নিজের পরিষ্কার থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। আত্মসম্মান হলো আত্মার পোশাক, এটি ছিঁড়ে গেলে মানুষের আসল রূপ বেরিয়ে আসে। নিজেকে ভালোবেসে নিজের মর্যাদা রক্ষা করার কিছু গভীর উক্তি এখানে দেওয়া হলো।

অন্যের টেবিলে খাবার খাওয়ার চেয়ে নিজের মাটিতে বসে অনাহারে থাকাও অনেক বেশি সম্মানের।

যেখানে আপনার উপস্থিতির কোনো মূল্য নেই, সেখানে অনুপস্থিত থেকে নিজের মূল্য বুঝিয়ে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কারো প্রিয় হওয়ার চেয়ে, একা থেকে নিজের ব্যক্তিত্ব ধরে রাখা অনেক শ্রেয়।

নিজেকে এতটাই সস্তা বানিও না যে, মানুষ তোমাকে যখন খুশি ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারে।

সম্মান নিয়ে উক্তি

কারো কাছে মাথা নত করার আগে ভাববেন, সেই মানুষটি আপনার সম্মানের যোগ্য কি না। কারণ মাথা একবার নিচু হলে তা ওঠানো কঠিন।

মানুষের ভিড়ে মিশে যাওয়া সহজ, কিন্তু একা দাঁড়িয়ে নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখা কঠিন। আর এই কঠিন কাজটাই সম্মান বয়ে আনে।

যে তোমাকে অবহেলা করে, তার পেছনে ঘুরে নিজের আত্মসম্মান নষ্ট করো না। মনে রেখো, তুমি ফেলনা নও।

নিজের মূল্য নিজে বুঝতে শিখুন। আপনি যদি নিজেকে ১০ টাকার নোট ভাবেন, দুনিয়া আপনাকে ভাঙতি টাকা হিসেবেই দেখবে।

কাউকে ভালোবাসতে গিয়ে নিজের আত্মসম্মান হারাবেন না। ভালোবাসা চলে গেলে আবার পাওয়া যায়, কিন্তু সম্মান চলে গেলে তা আর ফেরে না।

নিজের ওপর বিশ্বাস রাখাই হলো সম্মানের প্রথম ধাপ। আমি পারি—এই বিশ্বাসই আপনাকে সবার থেকে আলাদা করবে।

ভিক্ষা করে পাওয়া ভালোবাসার চেয়ে অর্জন করে নেওয়া ঘৃণা অনেক বেশি সম্মানের।

সবকিছুর সাথে আপস করা যায়, কিন্তু আত্মসম্মানের সাথে আপস করা মানে নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।

নিজের দুর্বলতা কখনো অন্যের কাছে প্রকাশ করবেন না। মানুষ দুর্বল জায়গায় আঘাত করতেই বেশি পছন্দ করে।

সম্মান পেতে হলে আগে নিজেকে সম্মান করতে শিখুন। আপনি নিজেকে যেভাবে ট্রিট করবেন, দুনিয়াও আপনাকে সেভাবেই ট্রিট করবে।

পায়ের তলার মাটি শক্ত না হলে কেউ আপনাকে কাঁধের ওপর বসাবে না। আগে নিজের অবস্থান তৈরি করুন।

নিজের অবস্থান ও যোগ্যতা নিয়ে উক্তি

সমাজ বড়ই অদ্ভুত। এখানে যার অবস্থান যত উঁচুতে, তার সম্মান তত বেশি। আপনার যোগ্যতা এবং অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই মানুষ আপনাকে বিচার করবে। কঠোর পরিশ্রম এবং অবস্থান তৈরির অনুপ্রেরণা নিয়ে কিছু কথা।

আজ যারা তোমাকে দেখে হাসছে, কাল তোমার অবস্থান দেখে তারাই তোমার সাথে ছবি তোলার জন্য লাইন দেবে।

কথা কম বলে নিজের কাজের শব্দ বাড়িয়ে দিন। আপনার সফলতাই হবে আপনার সম্মানের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

যতদিন তোমার পকেটে টাকা এবং সমাজে অবস্থান আছে, ততদিনই মানুষের কাছে তোমার কদর আছে। এটিই তিক্ত সত্য।

নিজের অবস্থান এমন জায়গায় নিয়ে যাও, যেন তোমাকে উপেক্ষা করা মানুষগুলোও তোমাকে সমীহ করতে বাধ্য হয়।

যোগ্যতা ছাড়া সম্মান দাবি করা আর আকাশ কুসুম কল্পনা করা একই কথা। আগে যোগ্য হন, সম্মান পায়ে হেঁটে আসবে।

মানুষ আপনার ব্যবহার মনে রাখে না, মনে রাখে আপনার অবস্থান। তাই আবেগের চেয়ে ক্যারিয়ারে বেশি ফোকাস করুন।

বসে থেকে সম্মান পাওয়া যায় না, সম্মান ছিনিয়ে আনতে হয় নিজের কাজ আর দক্ষতা দিয়ে।

সূর্য ডুবলে যেমন ছায়াও সাথে থাকে না, তেমনি সুসময় চলে গেলে তোষামোদকারীরাও থাকে না। তাই নিজের অবস্থান নড়বড়ে হতে দেবেন না।

দামী পোশাক পরলেই সম্মান বাড়ে না, সম্মান বাড়ে যখন আপনার চরিত্র এবং অবস্থান দামী হয়।

তোমার আজকের পরিশ্রমই ঠিক করে দেবে কাল তুমি সমাজের কোন চেয়ারে বসবে।

সম্মান নিয়ে উক্তি

সিংহাসন কেউ কাউকে ছেড়ে দেয় না, নিজের যোগ্যতা দিয়ে তা দখল করে নিতে হয়।

যাদের নিজের কোনো অবস্থান নেই, তারা অন্যকে নিয়ে সমালোচনা করেই আনন্দ পায়। তাদের কথায় কান দিও না।

নিজের পরিচয় বাবার নামে নয়, বরং এমন কিছু করো যেন বাবার পরিচয় তোমার নামে হয়। সেটাই আসল সম্মান।

অবস্থান পরিবর্তন করতে চাইলে আগে অভ্যাস পরিবর্তন করো। নিচুতলার মানুষের চিন্তাভাবনা নিয়ে ওপরতলায় ওঠা যায় না।

মাটি কামড়ে পড়ে থাকো, কিন্তু নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যেও না। একদিন এই মাটিই তোমাকে সোনার ফসল দেবে।

সম্পর্কে সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে উক্তি

ভালোবাসা বা বন্ধুত্ব—যেকোনো সম্পর্কের ভিত্তি হলো সম্মান। যেখানে সম্মান নেই, সেখানে ভালোবাসা থাকাটা কেবলই অভিনয়। সম্পর্কের মর্যাদা নিয়ে কিছু হৃদয়স্পর্শী উক্তি।

ভালোবাসা থাকলে সম্মান নাও থাকতে পারে, কিন্তু সম্মান থাকলে সেখানে ভালোবাসা জন্মাবেই।

যে তোমাকে সম্মান দিতে জানে না, সে তোমাকে কখনোই সত্যিকারের ভালোবাসতে পারে না।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য কেবল ভালোবাসাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন হয় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের।

নারীকে সম্মান করা দুর্বলতা নয়, বরং এটি একজন সুশিক্ষিত ও ভদ্র পুরুষের পরিচয়।

সম্পর্কে যখন সম্মানের অভাব দেখা দেয়, তখন দূরত্বের দেওয়াল তৈরি হতে খুব বেশি সময় লাগে না।

প্রিয় মানুষটিকে সম্মান করা মানে নিজেকেই সম্মানিত করা। কারণ সে আপনারই প্রতিচ্ছবি।

যে সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করতে জানে না, সে জীবনে যত বড় অবস্থানেই যাক না কেন, সে আসলে ব্যর্থ।

কাউকে ছোট করে কেউ কখনো বড় হতে পারে না। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।

সম্মান নিয়ে উক্তি

বিশ্বাস আর সম্মান—দুটোই কাচের মতো। একবার ভেঙে গেলে জোড়া লাগালেও দাগ থেকে যায়।

ভালোবাসার মানুষটির কাছে মাথা নত করা সম্মানের হানি নয়, বরং এটি ভালোবাসার গভীরতা প্রমাণ করে।

যাকে আপনি সম্মান করেন, তার মতামতকেও গুরুত্ব দিন। একতরফা সিদ্ধান্তে সম্পর্ক টেকে না।

স্ত্রীর সম্মান স্বামীর ব্যবহারে, আর স্বামীর সম্মান স্ত্রীর আনুগত্যে ও বিশ্বাসে।

যে পুরুষ নারীর সম্মান বোঝে না, সে আসলে পুরুষত্বের সংজ্ঞাই জানে না।

বন্ধুত্বে সম্মান না থাকলে সেই বন্ধুত্ব বেশিদিন টেকে না, তা কেবল স্বার্থের সম্পর্ক হয়ে দাঁড়ায়।

কাউকে ভালোবাসার আগে তাকে সম্মান করতে শিখুন। কারণ সম্মানহীন ভালোবাসা অপমানজনক।

অবহেলা ও নীরবতা নিয়ে উক্তি

অবহেলার জবাব ঝগড়া করে দেওয়া যায় না। নীরবতা এবং নিজের উন্নতি দিয়ে অবহেলার জবাব দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। যারা আপনাকে অবমূল্যায়ন করেছে, তাদের জন্য এই উক্তিগুলো।

যে তোমাকে অবহেলা করে, তাকে ধন্যবাদ দাও। কারণ সে তোমাকে শিখিয়েছে যে একা পথ চলা কতটা জরুরি।

অপমানের জবাব গালি দিয়ে নয়, নিজের কাজের মাধ্যমে এমনভাবে দিন যেন অপমানকারী নিজের ভুল বুঝতে পারে।

নীরবতা হলো সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ। যেখানে আপনার কথার মূল্য নেই, সেখানে চুপ থাকাটাই সম্মানের।

তোমাকে যারা মূল্যহীন ভেবেছে, তাদের ভুল প্রমাণ করার একমাত্র উপায় হলো নিজেকে অমূল্য করে গড়ে তোলা।

কুকুর ঘেউ ঘেউ করলে যেমন তার সাথে ঘেউ ঘেউ করতে নেই, তেমনি নিচু মানসিকতার মানুষের সাথে তর্কে জড়াতে নেই। এতে নিজের সম্মান কমে।

কারো অবহেলায় নিজেকে কষ্ট দিও না। মনে রেখো, সবাই হীরের পরখ করতে জানে না।

সম্মান নিয়ে উক্তি

যে আজ তোমাকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, সময় আসতে দাও, সে-ই তোমাকে দেখার জন্য অপেক্ষা করবে।

নিজেকে এমনভাবে তৈরি করো যেন অবহেলাকারীরা তোমার দিকে তাকাতে লজ্জা পায়।

তর্ক করে জেতা যায়, কিন্তু সম্মান পাওয়া যায় না। সম্মান পেতে হলে মাঝেমধ্যে হেরে গিয়েও জিততে হয়।

অবহেলার আগুনে পুড়েই খাঁটি সোনা হতে হয়। এই আগুনকে শক্তি বানাও, ছাই হতে দিও না।

তোমার নীরবতাই বলে দেবে তোমার অবস্থান কতটা উঁচুতে। নিচু মানুষরাই বেশি শোরগোল করে।

সময়কে সময় দাও। সময়ই একদিন তোমার হয়ে যারা অপমান করেছিল তাদের জবাব দিয়ে দেবে।

বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি

যুগে যুগে মনিষীরা সম্মান এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে অনেক মূল্যবান কথা বলে গেছেন। তাদের দর্শন আমাদের পথ চলতে সাহায্য করে।

চাণক্য বলেছেন, “যেখানে তোমার সম্মানের হানি হয়, সেখানে এক মুহূর্তও থেকো না, তা সে স্বর্গের সমান সুখের স্থানই হোক না কেন।”

এ পি জে আব্দুল কালাম এর মতে, “মানুষের জীবনে কঠিন সময়ের প্রয়োজন আছে, কারণ কঠিন সময়ই মানুষকে সাফল্যের প্রকৃত স্বাদ এবং সম্মানের মূল্য বোঝায়।”

হুমায়ূন আহমেদ তাঁর লেখনীতে বলেছেন, “মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেরা পকেটে টাকা না থাকলেও মেরুদণ্ড সোজা রেখে চলতে জানে। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় অহংকার।”

হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, “তুমি যদি কাউকে সম্মান করো তবে সে তোমাকে সম্মান করবে। আর যদি তুমি কাউকে অসম্মান করো, তবে নিজের সম্মান হারানোর জন্য প্রস্তুত থেকো।”

আলবার্ট আইনস্টাইন এর বিখ্যাত উক্তি, “সফল মানুষ হওয়ার চেয়ে বরং একজন মূল্যবান মানুষ হওয়ার চেষ্টা করো, সম্মান আপনাআপনিই আসবে।”

শেক্সপিয়র বলেছেন, “আমার নামে কে কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না। আমি জানি আমি কে এবং আমার অবস্থান কোথায়।”

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, “নিজে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। দুনিয়া তোমাকে পদদলিত করতে চাইবে, কিন্তু তুমি উঠে দাঁড়াও এবং নিজের সম্মান আদায় করো।”

শেখ সাদী বলেছেন, “অযোগ্য লোকের কাছে সম্মান চাওয়া আর পাথরের কাছে পানি চাওয়া একই কথা।”

ফেসবুক ও স্ট্যাটাসের জন্য ছোট ক্যাপশন

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলার জন্য ছোট কিন্তু ভারি কিছু ক্যাপশন।

সম্মান তাকেই দিই, যে সম্মান পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

আমার অবস্থান আমার ব্যবহারে, তোমার বিচারে নয়।

টাকা দিয়ে বিলাসিতা কেনা যায়, ক্লাস নয়।

মাথা নত করি কেবল স্রষ্টার কাছে, আর কারো কাছে নয়।

আমি সবার প্রিয় হতে আসিনি, আমি নিজের মতো হতে এসেছি।

সম্মান দাও, সম্মান পাবে। সমীকরণটা খুব সহজ।

সিংহ কখনো কুকুরের ডাকের জবাব দেয় না।

আমার নীরবতা মানে আমি দুর্বল নই, আমি ভদ্র।

নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি, তাই কারো দয়ায় চলি না।

অবস্থান তৈরি করছি, শব্দ তো হবেই।

রাজা হতে হলে আগে নিজের মনের ওপর রাজত্ব করতে হয়।

হাজারো ভিড়ে আমি একাই একশো, এটাই আমার অ্যাটিটিউড।

সম্মান ভিক্ষা নয়, অর্জন করার জিনিস।

কারো অপছন্দে আমার কিছু যায় আসে না, আমি আমার জন্য সেরা।

যে চলে গেছে তাকে যেতে দাও, দরজাটা লাগিয়ে দাও। আত্মসম্মান সবার আগে।

কীভাবে সম্মান ও অবস্থান অর্জন করবেন

সম্মান একদিনে তৈরি হয় না। এটি দীর্ঘদিনের অভ্যাসের ফসল। নিজেকে সমাজে সম্মানিত ও প্রতিষ্ঠিত করতে এই ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

১. কথা ও কাজের মিল রাখুন:

আপনি যা বলেন, তা করার চেষ্টা করুন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা কথার বরখেলাপ মানুষের চোখে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। বিশ্বাসযোগ্য মানুষই সবচেয়ে বেশি সম্মান পায়।

২. অন্যের কথা শুনুন:

সবসময় নিজের ঢাক পেটাবেন না। অন্যকে বলার সুযোগ দিন এবং তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। একজন ভালো শ্রোতা সবার কাছে প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয় হয়।

৩. নিজের সীমারেখা তৈরি করুন:

সবাইকে আপনার জীবনে অনধিকার চর্চা করতে দেবেন না। ‘না’ বলতে শিখুন। নিজের বাউন্ডারি সেট করলে মানুষ বুঝবে আপনি নিজেকে কতটা গুরুত্ব দেন।

৪. পোশাক ও ব্যক্তিত্বে মার্জিত হোন:

দামী পোশাক নয়, বরং পরিষ্কার ও মার্জিত পোশাক পরুন। আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, হাঁটাচলা এবং কথা বলার ধরনে যেন ভদ্রতা ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ থাকে।

৫. পরচর্চা থেকে দূরে থাকুন:

অন্যের নামে কুৎসা রটানো বা গসিপ করা নিচু মানসিকতার পরিচয়। যারা অন্যের নিন্দা করে না, সমাজ তাদের আলাদা নজরে দেখে এবং সমীহ করে।

শেষ কথা

জীবনটা একটা যুদ্ধক্ষেত্র, আর সম্মান হলো সেই যুদ্ধের বর্ম। টাকা পয়সা, রূপ-সৌন্দর্য—সবকিছুই সময়ের সাথে মলিন হয়ে যায়। কিন্তু আপনি যদি একটি সুন্দর চরিত্র এবং শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন, তবে মৃত্যুর পরেও মানুষ আপনাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

কখনো পরিস্থিতির চাপে নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করবেন না। মনে রাখবেন, পেটে ক্ষুধা নিয়ে বেঁচে থাকা যায়, কিন্তু আত্মসম্মান হারিয়ে বেঁচে থাকাটা জীবন্ত লাশ হওয়ার সমান। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, পরিশ্রম করুন এবং নিজের এমন একটি অবস্থান তৈরি করুন যেন কেউ আপনাকে অবহেলা করার সাহস না পায়। আপনার সম্মান আপনার হাতেই।

FAQs (সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)

আত্মসম্মান এবং অহংকারের মধ্যে পার্থক্য কী?

আত্মসম্মান হলো “আমি পারি এবং আমি মূল্যবান” এই বোধ। আর অহংকার হলো “শুধু আমিই পারি এবং বাকিরা তুচ্ছ” এই ভাবনা। আত্মসম্মান ব্যক্তিত্ব বাড়ায়, অহংকার পতন ডেকে আনে।

মানুষ কেন আমাকে সম্মান করে না?

মানুষ সম্মান করে না সাধারণত দুটি কারণে—হয় আপনার আত্মবিশ্বাসের অভাব আছে, অথবা আপনি নিজেকে অতিরিক্ত সহজলভ্য করে ফেলেছেন। নিজের গাম্ভীর্য বজায় রাখুন।

হারানো সম্মান কি ফিরে পাওয়া সম্ভব?

হ্যাঁ, সম্ভব। তবে তা কঠিন। নিজের ভুলগুলো শুধরে, কঠোর পরিশ্রম এবং সৎ আচরণের মাধ্যমে পুনরায় মানুষের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা অর্জন করা যায়।

গরিব মানুষের কি সম্মান পাওয়া কঠিন?

সমাজে টাকার প্রভাব বেশি, এটা সত্য। কিন্তু সততা, ভালো ব্যবহার এবং জ্ঞানের মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষও ধনীর চেয়ে বেশি সম্মান অর্জন করতে পারেন। অবস্থান টাকার অঙ্কে নয়, গুণাবলীতে তৈরি হয়।

প্রেমের সম্পর্কে সম্মান বজায় রাখার উপায় কী?

সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, তাকে অন্যের সামনে ছোট না করা এবং তার ব্যক্তিগত পরিসরকে (Space) শ্রদ্ধা জানানোই হলো সম্পর্কে সম্মান বজায় রাখার চাবিকাঠি।

কর্মক্ষেত্রে কীভাবে নিজের অবস্থান তৈরি করব?

অফিসে গসিপ এড়িয়ে চলুন, সময়ের কাজ সময়ে শেষ করুন এবং নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকুন। যখন আপনি প্রতিষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠবেন, সম্মান ও অবস্থান আপনাআপনিই তৈরি হবে।

আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরো কিছু ক্যাপশন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

Average rating 0 / 5. Vote count: 0

No votes so far! Be the first to rate this post.

As you found this post useful...

Follow us on social media!

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

Tell us how we can improve this post?

Leave a Comment