কি খেলে টিউমার ভালো হয়

কি খেলে টিউমার ভালো হয়

টিউমার হচ্ছে  মানব শরীরের ওপরে গঠিত চামড়ার উপর অবস্থিত এমন একটি মাংসপেশি যেটির মাধ্যমে শরীরের মধ্যে অস্বাভাবিক ভাবে সকল কোষের অনেকগুলো অর্থাৎ বেশিরভাগ সমাবেশ যেইখানে সেইখানে শুধুমাত্র কোষগুলোকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থেকে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সংখ্যা বাড়ায় তাকেই  টিউমার বলে।টিউমার শরীরের জন্য একটি বিশেষ ক্ষতিকর বিষয় বলেই মনে করা হয়। কারণ হলো সাধারণভাবে টিউমারকে ক্যান্সারের স্থল বলেই মনে করা হয়। 

কিন্তু সকল টিউমার অবশ্যই ক্যান্সার বহন করে না। কিন্তু সকল ক্যান্সার গুলোই টিউমার থেকে হয়ে থাকে। তবে টিউমার হলে অবশ্যই সেটা ভালো করা উচিত। কারণ টিউমার অবশ্যই ক্ষতিকর।মানুষের ভয় হওয়াটাও স্বাভাবিক কারণ টিউমার থেকে যেহেতু ক্যান্সারের বিস্তার লাভ হয়ে থাকে।তাই যখনই সাধারণ সেল ডিসিশন অর্থাৎ কোষের যে বৃদ্ধি সেগুলো ঠিকভাবে না হয়ে অস্বাভাবিকভাবে যদি বাড়তে থাকে তাহলেই ক্যান্সারে আশঙ্কা থাকে বা টিউমারের আশঙ্কা থাকে। 

কোষ বৃদ্ধিকে যদি থামিয়ে দেওয়া যায় তাহলে অবশ্যই টিউমার থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। টিউমার হলে সকলেই ভয়ে থাকে তবে আমরা অনেকেই জানিনা কিছু খাবার খেলে টিউমার থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায় বা টিউমার কখনোই হয় না। কারণ আমাদের খাবারের উপরই নির্ভর করে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। আজকের আর্টিকেলে কি খেলে টিউমার ভালো হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই চলুন দেরি না করে আর্টিকেলটি শুরু করা যাক:

টিউমার চেনার উপায়

টিউমার সাধারণত ২ প্রকার থাকে 

১) বিনাইন টিউমার 

২) ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ও ক্যান্সার টিউমারে। চলুন এই টিউমার গুলো চেনার উপায় জেনে নিই,

১) বিনাইন টিউমার চেনার উপায়

বিনাইন টিউমার শরীরে হলে কোন ব্যাথা হয়না মাংস একটু ফুলে থাকে ওখানে হাত দিলে বা চাপ কোন রকম ব্যাথা হয়না।এই টিউমারের বৃদ্ধি খুবই ধীরে ধীরে হয়ে থাকে।অনেক সময় বিনাইন টিউমারের বৃদ্ধি হয় না একই অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে।আপনার শরীরের টিউমার যদি এরকম কোন অবস্থায় থাকে তাহলে সেটা বিনাইন টিউমার। এই বিনাইন টিউমারের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। 

বিনাইন টিউমার হলে আপনি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করলে আপনার ঠিক হয়ে যাবে বিনাইন টিউমার। অথবা আমাদের এই আর্টিকেলে কি খেলে টিউমার ভালো হয় এই বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। আপনি চাইলে এইভাবে বিনাইন টিউমার ভালো করতে পারবেন। 

২) ম্যালিগন্যান্ট টিউমার চেনার উপায়

ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শক্ত প্রকারের হয়ে থাকে আরে স্পর্শ করলে ব্যথা অনুভব করে। এই ম্যালিগন্যান্ট টিউমারটি খুব দ্রুত বড় হয়ে যায়। এসব টিউমার স্পর্শ করলে চামড়া থেকে পৃথক মনে হয়না চামড়া  সাথে এবং কি মাংসের সাথে আটকে থাকে। আর টিউমারের আলাদা একটা আবরণ থাকে। পিচ্ছিল টাইপের একটা আবরণ থাকে এবং কি ধরলে ব্যথা হয়। আপনার গায়ের টিউমারের মধ্যে যদি এরকম কোন বিষয় খুঁজে পান তাহলে সেটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। 

তো টিউমার কতটা ভয়ঙ্কর সেটি আপনি বুঝতে পেরেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে আপনাকে সতর্ক হয়ে থাকতে হবে। এই ম্যালিগন্যান্ট টিউমার পরবর্তীতে ক্যানসারের রূপান্তরিত হতে পারে। তাই আপনার যদি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই খুব দ্রুত টিউমার ভালো করার চেষ্টা করবেন।

টিউমার ভালো করতে যে খাবার গুলো খাবেন

১) দুধ জাতীয় খাবার 

দুধ হল একটি তরল জাতীয় ক্যালসিয়াম পদার্থ যা খুবই পুষ্টিকর একটি খাদ্য। অনেকেই রয়েছেন যারা দুধ খেতে পছন্দ করেন না কিন্তু আসলে এটা করা উচিত নয়। আপনারা চাইলে প্রতিনিয়ত গরু এবং ছাগলের দুধ এসকল জাতীয় দুধ আপনারা খেতে পারেন এতে আপনারা অনেক পরিমান ভিটামিন পেয়ে যাবেন এবং আপনাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিগুন বৃদ্ধি পাবে।

২)মাছ 

আমরা বাঙালি  প্রায় প্রত্যেকটি মানুষই মাছ খেতে পছন্দ করে। মাছ প্রধানত প্রাচীনকাল থেকে মানুষ অন্যতম খাদ্য হিসেবে বিবেচিত করে রেখেছে। আপনারা যদি আপনাদের খাবারে প্রতিনিয়ত বা প্রতিদিন মাছ খেতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

কিছু কিছু মানুষ রয়েছে যে মাসগুলোতে আপনারা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন পেয়ে যাবেন এবং সে মাছগুলো হল ঢেলা মাছ মলা মাছ এসকল মাসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ রয়েছে যার মাধ্যমে আপনাদের দৃষ্টি শক্তি অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। তাই আপনারা প্রত্যেকদিনের খাবারের তালিকায়  মাছ রাখতে পারেন এতে আপনার ক্যান্সার ভালো হয় সম্ভাবনা রয়েছে।

৩) হলুদ 

টিউমার ভালো করার জন্য আপনারা চাইলে নিয়মিত হলুদ খেতে পারেন। এটা সাধারণত খালি খাওয়া যাবেনা এটা আপনারা বিভিন্ন রান্নাবান্নায় ব্যবহার করে খেতে পারেন কেননা হলুদ পরিমাণমতো খেলে আপনারা খুব সুস্থ থাকবেন এবং টিউমার ভাল করতে অনেক কাজে দেবে। 

সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তরকারিতে মিশিয়ে খেতে হবে হলুদ।হলুদ মূলত একটি মসলাজাতীয় খাবার যেটা আমরা প্রতিনিয়ত সকলেই বিভিন্ন তরকারিতে বা বিভিন্নভাবে খেয়ে থাকি। মানব শরীরে যদি কোন প্রকার অসুখ থেকে থাকে তাহলে এই হল তার বিপরীত ভাবে কাজ করে অর্থাৎ মানুষের শরীরকে সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করে। তাই অবশ্যই আপনারা চাইবেন যে তরকারিতে হলুদ ব্যবহার করতে পরিমাণমতো।

৪) সবুজ জাতীয় সবজি

আপনারা আপনাদের প্রতিদিনকার খাবারে অন্তত একবার হলেও শাকসবজি রাখতে হবে যেমন সবুজ জাতীয় শাকসবজি যেগুলো খেলে আপনাদের শরীরে অনেক পুষ্টি বৃদ্ধি হবে। এর মধ্যে এই সকল শাকসবজি আপনারা খেতে পারেন যেমন পালংশাক লেটুস শাক এককথায় যেগুলো শাকসবজিতে ভিটামিন এর পরিমাণ বেশি সেগুলো খেতে হবে। শাকসবজিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মূলত শরীরে যদি টিউমার হয় তাহলে টিউমার ভাল করতে অনেক বেশি কাজ করে থাকে অর্থাৎ টিউমারের বিপরীতে কাজ করে থাকে শাকসবজি। শাকসবজি খেলে শুধুমাত্র টিউমার ভালো হবে এমন কিন্তু নয় নানান ধরনের অসুখ থেকে আপনারা মুক্তি পেয়ে যাবেন সেই কারণে অবশ্যই শাকসবজি নিয়মিত খেতে হবে।

৫) ব্রোকলি 

ব্রকলি বিভিন্ন প্রাকৃতিক গুণগণে ভরপুর। ব্রকলি নিয়মিত খেলে টিউমারের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। 

৬) সিম জাতীয় সবজি

সিম খুব পুষ্টিকর একটি সবজি। আপনি যদি প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় সিম রাখেন তাহলে আপনার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।

৭)গাজর

গাজরে রয়েছেন আনা ঔষধি গুন। বিভিন্ন ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন গাজর নিয়মিত খেলে টিউমারের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৮) মাশরুম

আমাদের দেহের অন্যতম খাদ্য ও পুষ্টির মূল একটি উৎস হলো মাশরুম। মাশরুমের মধ্যে রয়েছে অনেক পরিমাণে ভিটামিন। মাশরুম টিউমার এর বিরুদ্ধে প্রচুর পরিমাণে লড়াই করে থাকে।মাশরুমের রয়েছে অনেকপরিমাণে ১০ টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড যা মানব দেহের জন্য খুবই দরকার। মাশরুমে রয়েছে প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুমে ২৫-৩৫ গ্রাম প্রোটিন। ১০০ গ্রাম মাছ মাংস ও ডিমের মধ্যে প্রোটিন আছে ১৬ থেকে ২২ ও ২২ থেকে ২৫ গ্রাম এবং১৩ গ্রাম। তাই টিউমার রোগ ভালো করার জন্য আমাদের মাশরুম খাওয়া প্রয়োজন। 

সবশেষে

একটি মানুষের শরীরে যে কোন স্থানে টিউমার হতে পারে। টিউমার হলেই ভয় পাবেন না টিউমারকে একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে ধরে নিতে পারেন তবে অবশ্যই অবহেলা করবেন না সঠিক সময় সঠিক চিকিৎসা করা জরুরী। শরীরের যেকোনো স্থানে ফোলা ভাব বা কোষ বৃদ্ধি দেখতে পাওয়ার সাথে সাথেই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। 

এছাড়াও উপরোক্তা আলোচনা বলা খাবারগুলো যদি আপনি নিয়মিত আপনার খাদ্য তালিকায় রাখেন তাহলে আপনার টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক আংশিক কমে যাবে। উপরোক্ত খাবার গুলোর মাধ্যমে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে যার ফলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতার সাথে টিউমার পেরে উঠবে না। আশা করি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনি কিছুটা হলে উপকৃত হয়েছেন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

সত্য ঘটনা ১

ব্রেইন টিউমার, নাক দিয়ে পানি পড়ে..

শাহীন,বয়স ৩৩বছর.. দীর্ঘ ৬ বছর নাক দিয়ে পানি পড়ে সাথে মাঝে মাঝে মাথাব্যথা ও বমি হয়। MRI করে দেখা যায় ব্রেইন এর একদম গভীরে ছোট একটা টিউমার ব্রেইন এর পানির রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। যার জন্য ব্রেইন এ পানি জমে মাথাব্যথা ও বমি হয়। পানির চাপ আরও বেশি বেড়ে নাক দিয়ে আসছে। আমাদের এখানে মাথার খুলি না কেটে শুধু ছোট একটা ফুটা করে এন্ডোস্কোপ এর সাহায্যে ব্রেইন এর পানি বের হওয়ার বিকল্প একটি রাস্তা করে দেই (ETV অপারেশন)। এর পর থেকে নাক দিয়ে পানি আসছে না, মাথা ব্যথা ও বমি নাই (আলহামদুলিল্লাহ)। মাত্র দুই দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে ছুটি হয়ে গেছে।

সচেতনতা:  ব্রেইন টিউমারের আধুনিক অনেক অপারেশন আছে যেখানে মাথার খুলি কাটার প্রয়োজন হয় না। একটি মাত্র ফুটা করে এন্ডোস্কোপ এর সাহায্যে সফল অপারেশন করা হয়। আস্থা রাখুন ও সাথে থাকুন।

ঘটনা ২

ব্রেইন টিউমারের ভয়কে করতে হবে জয়..

মালেক সাহেব ২২বছর কাতার থাকার পর গত মাসে দেশে এসেছেন। কাতারে থাকতেই তার প্রায়ই মাথাব্যথা হতো, ওখানে কয়েকবার ডাক্তার দেখালেও ব্যথা কমেনি এবং কোন সমস্যা ধরা পড়েনি। দেশে আসার পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাটতে পারতেন না, হাটতে গেলে পড়ে যেতেন। এখানে সিটিস্ক্যান করে ধরা পড়ে মেনিনজিওমা নামক ব্রেইন টিউমার।

আমরা অপারেশন করে শতভাগ টিউমার সফলতার সাথে বের করে দেই আলহামদুলিল্লাহ অপারেশনের ২ দিন পর থেকেই রোগী স্বাভাবিক হাটতে পারে। অপারেশনের পর সিটিস্ক্যান করে দেখা যায় কোন টিউমার অবশিষ্ট নাই।

কারও ব্রেইন টিউমার ধরা পড়লেই আমরা ভয় পেয়ে যাই। মনে করি ব্রেইন টিউমার অপারেশনে গেলেই নির্ঘাত মৃত্যু, এজন্য অপারেশন করতে চাই না, আবার অনেকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্যও চলে যায়। অথচ দেশেই আমরা অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ, হাই-স্পীড ক্রেনিওটোম, নিউরোমনিটর ইত্যাদি সকল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সর্বাধিক সফলতার সাথে ব্রেইন টিউমার অপারেশন করছি….

Also read:

Leave a Comment